বিদ্যাপতির ভাব সম্মিলন কবিতার উৎস, পর্যায়, সারাংশ, শব্দার্থ, মূলসুর


Last Updated on : June 11, 2024

বিদ্যাপতির ভাব সম্মিলন কবিতা : আজকে তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করবো একাদশ বাংলা কবিতা “ভাব সম্মিলন”, কবি বিদ্যাপতি || প্রশ্ন ও উত্তর | Class 11 XI Bengali Question and Answer  | 11th Bengali Examination – একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমেস্টার। ভাব সম্মিলন । প্রশ্ন ও উত্তর পেয়ে যাবে |

তোমাদের এই পোস্টের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমেস্টার বাংলা কবিতা “ভাব সম্মিলন” প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা আছে । আমাদের আশা এই প্রশ্নগুলি তোমাদের পরীক্ষায় খুবই কাজে আসবে।

বিদ্যাপতির ভাব সম্মিলন কবিতার উৎস, পর্যায়, সারাংশ, শব্দার্থ, মূলসুর

বিদ্যাপতির ভাব সম্মিলন কবিতার উৎস


  • কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন।
  • এছাড়াও আরো কয়েকটি বৈষ্ণব পদ সংকলন বৈষ্ণব পদ সংকলন গ্রন্থে এই কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।

বিদ্যাপতির ভাব সম্মিলন কবিতার পর্যায়


  • কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন গ্রন্থে কবিতাটি “ভাবোল্লাস ও মিলন” পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
  • তবে শিক্ষাসংসদের পাঠ্য অনুযায়ী এটি “ভাব সম্মিলন পর্যায়ের। যদিও উভয়েই একার্থে প্রযোজ্য হয়েছে।
আরো পড়ুন :  WB HS XII Political Science Previous Year Question Papers pdf download | উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিগত বছরের প্রশ্নপত্র

বিদ্যাপতির ভাব সম্মিলন কবিতার সারাংশ


শ্রীরাধিকা তাঁর সখীকে জানাচ্ছেন : 

  • হে সখি, আমার সীমাহীন আনন্দের কথা কী আর বলব; চিরকাল মাধব শ্রীকৃষ্ণ আমার হৃদয়-মন্দিরে থাকবেন।
  • পাপী চন্দ্রকিরণ আমাকে যত না কষ্ট দিয়েছে, প্রিয় মাধবের মুখ দর্শনে আমি ততটাই সুখ পেয়েছি।
  • যদি কেউ আঁচল ভরে মহামূল্যবান রত্নও দেয়, তবুও আমি প্রিয়তমকে দূর দেশে পাঠাবো না।
  • প্রিয় আমার শীতের ওড়না, গ্রীষ্মের বাতাস, বর্ষার ছাতা, উত্তাল নদীর নৌকো মতো।
  • বিদ্যাপতি বলেন, শুন ওহে বরনারী রাধিকা, যে হয় সুজন বা সৌভাগ্যবতী তাঁর দুঃখ চিরকালের নয় বরং স্বল্পকালের।

বিদ্যাপতির ভাব সম্মিলন কবিতার শব্দার্থ


  • কহব = বলব
  • সখি = সখী শব্দের সম্বোধন; বন্ধু, সহচরী
  • ওর = সীমা-পরিসীমা (ব্রজবুলি শব্দ)
  • চিরদিন = চিরকাল
  • মাধব = শ্রীকৃষ্ণ
  • মন্দির = কবিতায় ‘গৃহ’ অর্থে
  • মোর = আমার
  • সুধাকর = চাঁদের আলো, জ্যোৎস্না (সুধা কথার অর্থ চাঁদ)
  • দুখ = দুঃখ
  • দেল = দিল (ব্রজবুলি শব্দ)
  • পিয়া = প্রিয় (এখানে কৃষ্ণ)
  • দরশন = দর্শন (স্বরভক্তি ঘটেছে)
  • ভেল = হলো (ব্রজবুলি শব্দ)
  • আঁচর = অঞ্চল, আঁচল, শাড়ির প্রান্ত
  • মহানিধি = মহামূল্যবান সম্পদ বা ধন
  • তব = তবুও
  • হাম = আমি
  • ওঢ়নী = ওড়না, গায়ের আবরণ
  • গীরিষের = গ্রীষ্মের (গ্রীষ্ম > গীরিষ)
  • বা = বায়ু, বাতাস
  • বরিষার = বর্ষাকালের (বর্ষা > বরিষা)
  • ছত্র = ছাতা
  • দরিয়া = নদী বা সমুদ্র
  • ভণয়ে = বলছে, বলে
  • শুন = শোনো
  • বরনারি = সুন্দরী (এখানে রাধিকার সম্বোধনসূচক শব্দ)
  • সুজনক = সৌভাগ্যবতীকে
  • দুখ দিবস = দুঃখের দিন
  • দুই-চারি = দু-চার দিনের
আরো পড়ুন :  উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশান ২০২৪ | WB HS Class 12 Political Science Suggestion 2024 PDF

বিদ্যাপতির ভাব সম্মিলন কবিতার মূলসুর


শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় গমন করলে শুরু হয় রাধিকার বিরহ। এই বিরহ ও বিকারের আবেশে রাধা কল্পনার মাধ্যমে কৃষ্ণের সঙ্গ-সুখ উপভোগ করছেন – একেই ভাব সম্মিলন বা ভাবোল্লাস নাম দেওয়া হয়েছে। বিদ্যাপতির এই পদ বা কবিতাটিতেও বিরহে কাতর রাধাও যেন স্বপ্নে কিংবা কল্পনায় শ্রীকৃষ্ণের দেখা পেয়েছেন; তাই তাঁকে আর ছেড়ে দিতে চান না। অর্থাৎ এই পর্যায়ের কবিতাও প্রকান্তরে বিরহেরই কবিতা। ভাবসম্মিলন বা ভাবোল্লাস পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবি হলেন বিদ্যাপতি। এই ভাবসম্মিলন বা ভাবোল্লাস পর্যায়ের আরও কয়েকটি কবিতা এখানে দেওয়া হলো :

  1. পিয়া যব আওব এ মঝু গেহে (বিদ্যাপতি)
  2. সই, জানি কুদিন সুদিন ভেল (চণ্ডীদাস)
  3. বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে (চণ্ডীদাস)
  4. আজু রজনী হাম ভাগে পোহায়লুঁ (বিদ্যাপতি)
  5. পহিলহি রাধামাধব মেলি (গোবিন্দদাস)
  6. অচিরে পূরব আশ / বন্ধুয়া মিলিবে পাশ (জ্ঞানদাস)
আরো পড়ুন :  বিদ্যাপতির ভাব সম্মিলন কবিতা, একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমেস্টার কবিতা

ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর

একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমেস্টার

একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমেস্টার


error: সংরক্ষিত !!
Scroll to Top