Join Telegram Join Facebook বাংলা রচনা
সাহিত্যের ইতিহাস সাজেশান Question-Paper
WBCS স্কুল নোটস ইতিহাস

অসুখী একজন [পাবলো নেরুদা] কবিতার ব্যাখ্যাধর্মী ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর, দশম শ্রেণি, Asukhi Ekjon by Pablo Neruda, 20+ Analytical Questions, 3 Marks, Class 10 Madhyamik

প্রিয় মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা,

আজকে তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করবো মাধ্যমিক বাংলা অসুখী একজন  কবিতা পাবলো নেরুদা-র || মাধ্যমিক অসুখী একজন  কবিতা থেকে ৩ নম্বরের ব্যাখ্যাধর্মী উত্তরধর্মী এবং ৩ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর | Ten Bengali Examination - মাধ্যমিক বাংলা থেকে ৩ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর | এগুলি তোমাদের ফাইনাল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।






অসুখী একজন [পাবলো নেরুদা] কবিতার ব্যাখ্যাধর্মী ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর, দশম শ্রেণি, Asukhi Ekjon by Pablo Neruda, 20+ Analytical Questions, 3 Marks, Class 10 Madhyamik



ব্যাখ্যাধর্মী ৩ নম্বরের নমুনা প্রশ্নোত্তর



১. রক্তের একটা কালো দাগ — কালো দাগে নিহিত সত্যিটা বোঝায় । উক্তিটির মর্মার্থ লেখ ।



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা । সৈনিত যুদ্ধের নারকীয় ও কলঙ্কিত পরিনামে বিষন্ন হয়ে পড়েছেন । পৃথিবীতে আক্রান্ত স্থানগুলির অবস্থা তো একটা আছে । তবে তিনি নিজের শহরের সভ্যতার আনুমানিক চিত্রটি দেখিয়েছেন। পশুপাখি, মানুষ যুদ্ধের ফলে সকলেই রক্তাক্ত । রক্ত লাল নিশ্চয় । কিন্তু শুকিয়ে গেলে কালো দেখায় । তাই নিহতের রক্তের কালো দাগ সর্বত্র নিঃশব্দে পড়ে আছে। এবং ওই শোকের সাক্ষী কালো দাগ ।




২. 'হেঁটে গেল গির্জার এক নান '--- উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা । এখানে নান বলতে সন্ন্যাসী কে বোঝানো হয়েছে । সন্ন্যাসী নিয়ে বলেই তাকে দুঃখ বিষাদ স্পর্শ করে না । তিমি বৈদান্তিকসন্ন্যাসীর মতে দুখ ও সুখের বিগতস্পৃহা। তিনি একটি প্রতীক অর্থাৎ এই যে দুটি প্রাণের মধ্য জানা-অজানা বিষাদ এগুলিতে তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই । পৃথিবী ওদের ঘটনায় যেন ঘুমিয়ে থাকে । নানের হেঁটে যাওয়া, ওই দুই প্রেমিক প্রেমিকার কাছে একটা বাধ্যতামূলক বিচ্ছেদ বার্তায় যেন বহন করে ।




৩. সেখানে ছাড়িয়ে রইলো কাঠকয়লা — কোথায় কাঠ কয়লা ছড়িয়ে রইলো ? অংশটির তাৎপর্য লেখো?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা । যুদ্ধের আগে যেখানে শহর ছিল সেখানে ছিল জীবন ধারন ছিল স্বপ্ন সেখানে রইলো কাঠ কয়লা এখন।

সর্বগ্রাস-ই মর্মস্পর্শী চিত্রটি তুলে ধরেছেন কবি এই যুদ্ধের ফলাফল। এই যুদ্ধ এতই ভয়ানক ছিল যার লেলিহান শিক্ষা জীবনের সব কিছুকেই গ্রাস করে নিয়েছে । শহুরে জীবনের ছন্দ, মানুষের বাসস্থান, মন্দির, বাজার, বন্দর মূর্তি ইত্যাদি ধ্বংস করে নিমেশেয়। কাঠ কয়লা, লোহা, মৃত পাথরের মূর্তি ইত্যাদি আর রক্তের কালো দাগ । তাই এমন মন্তব্য করা হয়েছে ।




৪. আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় — এখানে আর শব্দটি কোন বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়েছে ?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা। কবিতা থেকে উদ্ধৃত এই অংশের আর শব্দটির যথেষ্ট তাৎপর্যবহ।

যুদ্ধ হলো ধ্বংস । এই অগ্রসনের হাত থেকে কারোর মুক্তি নেই । যুদ্ধ বদলে দেয় যাবতীয় চেনা ছবি ও ছন্দকে। করে প্রকৃত জীবন এমন কি দেবতারাও রেহাই পাইনা এই অগ্রসনের হাত থেকে । এই প্রেমের কাছে যুদ্ধ কেও পরাজয় স্বীকার করতে হয় । যুদ্ধের ধ্বংসলীলার পর শহরের বুকে ছড়িয়ে ছিল কাঠ কয়লা। দোমড়ানো লোহা রক্তের কালো দাগ ইত্যাদি ।এবং সেই মেয়েটি অপেক্ষায় ছিল । এই কবিতাটি এই ভাবেই ফুটে উঠেছে ।




৫. ডুবে ছিল ধ্যানে — ব্যাখ্যা করো?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা । এখানে ধ্যানে ডুবে থাকা মানে দেবতাদের কথা বলা হয়েছে । চার হাজার বছর ধরে পূজিত হন। মানুষের মনের সংস্কার হলো মৌন দেবতারা ধ্যানমগ্ন থাকেন। সারা পৃথিবীর ও মঙ্গল সাধনা করেন তারা। যুদ্ধ এসে সব লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেল। দেবমূর্তি সকল ধ্বংস লীলার বালি হল । মন্দিরের ভিতরে মূর্তিগুলো উল্টে পড়লো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেল । সেই সঙ্গে দেশের অবস্থা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল ।




৬. সব চূর্ণ হয়ে গেল জ্বলে গেল আগুন — কোন কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে ? এই পরিণতির কারণ কী?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা । এই উদ্ধৃতিতে অনেক কিছুই চূর্ণ হয়ে যেতে দেখা যায় । যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে কবির মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, গোলাপ গাছ, ছড়ানো করতালের মত পাতা, প্রাচীন জল তরঙ্গ সব চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।

যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন সেই ধ্বংসযজ্ঞ সবকিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। আসলে যুদ্ধ বিনাশকেই আহ্বান জানায়। মানবিকতার বিবেকবোধ বিসর্জন দিয়ে মানুষ যখন ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে তখন তার অাগ্রাসন থেকে কেউ রক্ষা পায়না।



৭. শিশু আর বাড়িরা খুন হলো — নারকীয়তাটি বুঝিয়ে দাও । উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখ ।



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো মেরুদার লেখা । যুদ্ধ শুধু হত্যা মরণ হিংসা । শুধু বিনাশ শুধু হয় । সবকিছু ছারখার হয়ে যাওয়া । মানুষের সবচেয়ে বেশি মূল্যবান ধন শিশু তারাও রেহাই পেলো না। আগুন ঝরা বোমা আর বোমায় বিষাক্ত গ্যাসের শিশুদের মৃত্যু হল । শুধু মৃত্যু তা নয় ক্ষুন্ন হয়। আর মানুষের বসতির আশ্রয় যে বাড়ি সে বাড়ি গুলি ধ্বংস হয়ে গেল । কবি জীবন্ত শিশুর সঙ্গে বাড়িকেও জীবন্ত করে দিল এক আসনে বসালেন ।



৮. যেখানে ছিল শহর — সেখানে কি ঘটে গেল ?



পাবলো নেরুদার লেখা কবিতাটি 'অসুখী একজন' । কবি শহরের চিত্রটি এভাবে বর্ণনা করেছেন । শহরে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে । অজস্র আগ্নেয় গোলায় সব ভস্মসাৎ । কাঠ কয়লা শহরে পড়ে থাকা ভস্মাবশেষ। কাঠের তৈরি যা কিছু পুরে কাঠ কয়লা হয়ে গেছে । ব্যবহৃত লোহাগুলি তাপে তাপে পিণ্ডে পরিণত হয়ে গেছে। আর পাথরের যত মূর্তি সেগুলো সৌকার্য আর নেই। এখানে সবকিছু পুরোটাই মৃত । তার মাথাগুলি পুরে বীভৎস মূর্তি ধরেছে ।




৯. রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মত — উপমাটির ভয়ংকরতা ও বিষন্নতার পরিচয় দাও ?



পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতাটি লেখা । কবি বলেন তারপর যুদ্ধ এলো । কি রকম ? উপমা দিয়ে স্বরূপ টির জানানো হলো রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মত । মূল বিষয় যুদ্ধ । তাকে তুলনা করা হয়েছে রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের সঙ্গে । আসলে যুদ্ধ হলো রক্তক্ষয়ী ।

আগ্নেয়গিরির লাভা প্রবাহের মতো কত রক্ত ঝরবে, তা বলা যায় না । কী ভয়ানক সেই মরণ আয়োজন ।




১০. আমি তাকে ছেড়ে দিলাম — বক্তা কাকে ছেড়ে দিলেন? এখানে ছেড়ে দেওয়ার তাৎপর্য কী?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার। এখানে কবি ছেড়ে দিলেন তার প্রিয়তমা নারীটিকে। তাকে দরজায় দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি চলে গেলেন বহুদূরে।

এখানে ছেড়ে দিলাম কথাটির যথেষ্ট তাৎপর্যবহ বলে মনে করা হয় । বক্তা স্বেচ্ছায় তাকে ছেড়ে দেননি । পরিস্থিতির দাবিতে তাকে ছেড়ে দিতে হয়েছে । এবং তিনি জানেন যে তিনি আর ফিরে আসবেন না । কিন্তু সে কথা তার প্রিয়তমাকে বলা হলো না । তাকে নিষ্ফল প্রতীক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি চিরতরের মতো চলে গেলেন।




১১. বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ — উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য লেখ।



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা।

কর্তব্যের আহবানে কবিতার প্রিয়তমাকে অন্তত প্রতীক্ষায় রেখে যুদ্ধ চলে যান। তিনি জানেন যে তার আর ফেরা হবে না । কিন্তু একথা তার প্রিয়তমাকে জানাননি । এক অন্তহীন বিরহ যন্ত্রণায় তাকে রেখে তিনি চলে যান । জীবনধারা বয়ে চলে তার চিরকালের ছন্দে । সপ্তাহ বছর অতিক্রান্ত হয়ে চলে । প্রকৃতির পালাবদলের মধ্য দিয়ে কবি চলার পথ থেকে মুছে যায় তার শেষ পদ চিহ্নটি । পথে ঘাস গজিয়ে কবিকে ঠেলে দেয় বিস্তৃত অতীতের গর্ভে ।




১২. সেই মিষ্টি বাড়ি — বাড়ির বিশ্লেষণ মিষ্টি কেন আলোচনা করে ?



পাবলো নেরুদার লেখা 'অসুখী একজন' কবিতাটিতে যুদ্ধ তার হীম প্রহারে সবই গুড়িয়ে দিয়ে যাই । তাতে ভালো মন্দের বাছ বিচার নেই । ভালো কিছুর ধ্বংস ঘটলে সকলের প্রাণেই ব্যাথা লাগে । যেমন বাড়ি । যে বাড়িতে মানুষ বসবাস করে সেই বাড়ির প্রতি মানুষের সন্তান সম আদর বর্ষিত হয় । সেই বাড়ি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল যুদ্ধের ফলে । সে কারোর একার বাড়ি নয় অজস্র মানুষের অজস্র বাড়ি ।



১৩. আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় — মেয়েটি কে ? তার অপেক্ষার তাৎপর্য লেখো?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা । কবি যাকে দরজায় দার করিয়ে রেখে গিয়েছে চিরকালের মত সে তার প্রেমিকা ।

সে তার প্রিয়তমাকে জানাতে পারেনি সে আর কখনো ফিরে আসবে না । প্রতীক্ষায় দীর্ঘ প্রহার গুলি সব দু:শাহ হয়ে উঠেছে । চলমান জীবনধারা থেকে কবি ক্রমশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যুদ্ধ বদলে দিয়েছে জীবনের ছন্দ । ধ্বংস ও মৃত্যুর প্রবাহ বয়ে গেছে কিন্তু মেয়েটির মৃত্যু হয়নি। সে এখনো অপেক্ষা করছেন কারণ ভালোবাসার কখনো মৃত্যু হয় না ।



১৪. সে জানতো না — কী জানতো না ? না জানা বিষয়টি বিশ্লেষণ করো?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা । এই কবিতা থেকে গৃহীত এই অংশটিকে প্র কবি এখানে প্রিয়তমার কথা বলেছেন । সে জানতো না বিদায় নিয়ে যে চলে যাচ্ছে সে আর কোনদিনই ফিরে আসবে না ।

বেদনার প্রতীক রূপে খুব সংহত ভাষায় ফুটে উঠেছে । এবং নারীটিকে এতই ভালোবাসেন যে তিনি জানাতে পারছেন না তার চির বিদায়ের কথা । এ আঘাত যে দুঃসাহ আঘাত । সরল বিশ্বাসে তার ফিরে আসার পথ চেয়ে নারীটি যে কষ্ট পাবে তার বেদনাই কবিকে ভরাক্রান্ত করে । তাই এমন মন্তব্য করা হয়েছে ।



১৫. পর পর পাথরের মতো বছরগুলো / নেমে এলো তার মাথার ওপর। — প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। বছরজগুলিকে পাথরের মতো বলা হয়েছে কেন ?



পাবলো নেরুদার লেখা 'অসুখী একজন' কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশ কবি দীর্ঘ প্রতীক্ষায় নির্ধারণ যন্ত্রণা চিত্রটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

কবিতার প্রিয়তমাকে রেখে গভীর যুদ্ধক্ষেত্রে চলে যাওয়ার পর অতিক্রান্ত হয়ে চলে দীর্ঘ সময় । এবং দেখা যায় জীবন ধরা নিজের ছন্দে বয়ে চলে । সময় বয়ে যায় সপ্তাহ মাস - বছরের অংকে । প্রতীক্ষায় মেয়েটি স্মৃতি ভারাক্রান্ত দুঃসহ প্রহার যাপন করে বড় কষ্টে যেন একের পর একটি ভারি পাথর তার মাথায় চেপে বসে যায় । নিরন্তর চেপে বসতে থাকে ।


১৬. সেই মেয়েটির মৃত্যু হল না। — উদ্ধৃতাংশটুকুর তাৎপর্য লেখো?



পাবলো নেরুদার লেখা 'অসুখী একজন' কবিতাটি । যাকে দরজায় প্রতীক্ষায় রেখে কবি চলে যান এখানে তারই কথা বলা হয়েছে ।

এই কবিতাটিতে কবি সেই মেয়েটিকে ছেড়ে চলে গেলেন। প্রতীক্ষার দীর্ঘ দু:সাহ প্রহার গুলি কাটাতে লাগলো । জীবন ধারা নিজের ছন্দে বয়ে চলল । কেটে গেল বহু বছর মাসের পর মাস সপ্তাহের পর সপ্তাহ । তারপর যুদ্ধ এলো । এমন ভয়ানক যুদ্ধ যা সব কিছু ছারখার করে দিল । শুধু মানুষ নয় দেবতারাও রেহাই পেল না। কিন্তুু মৃত্যু হলো না মেয়েটার । অবসান হলো না তার প্রতীক্ষার । এই প্রতীক্ষায় হল প্রেম । প্রেম চিরকাল অমর ।



১৭. সব চূর্ণ হয়ে গেল — কী কী চূর্ণ হয়ে গেল ?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা। সব চূর্ণ হয়ে গেল বলতে কবি বুঝিয়েছেন দেশের কত শহর পল্লীতে কত কিছু সব চূর্ণ হয়ে গেল । কবি বলতে চেয়েছেন যুদ্ধে যাওয়া সৈনিক তার নিজের বাড়ির ধ্বংস চিত্রটি কল্পনায় এঁকে ফেলেছে । এইসব চিত্র কাল্পনিক হলেও আদৌ অবিশ্বাস্য নয় । সৈনিকের মিষ্টি বাড়ি, ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমানোর বারান্দা, গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতালের মতো তার পাতা, কত কিছু সব চূর্ণ-বিচূর্ণ। তাই এমন মন্তব্য করা হয়েছে ।



১৮. সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন — আগুনের সর্বগ্রাসী মূর্তি আঁকো।



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার তার লেখা । কবি এখানে বলতে চেয়েছেন যুদ্ধ যদিও স্থলে জলে আকাশে চলে, তবু তার বেশিরভাগ দুর্ভোগ ভুগতে হয় সমতলবাসিকে। কারণ সমতলের লোক বসতি বেশি । তাই সর্বাধিক ক্ষতি সাধনের জন্য শত্রু পক্ষ সমতলকে বেছে নেয় । এই কবিতায় যে যুদ্ধের কথা পড়ি সমতলে তার প্রভাব ও পড়েছিল । গোটা সমতল ধরে গেল আগুন, এবং বোমা বর্ষণে সবই জ্বলে যেতে লাগলো। সে এক ভয়ানক দৃশ্য।



১৯. ঘাস জন্মালো রাস্তায় — উক্তিটির সার্বিক তাৎপর্য লেখো?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা । কবির বক্তব্য অনুযায়ী সৈনিক ভেবে নিয়েছে তার বাড়ির অবস্থা কেমন হবে । দেখোতো কে এসেছে তার নিত্য চলাফেরার ফেলে আসা রাস্তা এখন ব্যবহৃত হয় না । নিয়মিত চলাফেরায় ঘাসগুলি অনেকটা চাপা পড়ে যায়। চলাফেরা না হলে ঘাস গুলি উঠে দাঁড়ায়। তাই মাথা উঁচু করা ঘাস গুলি যেন জানান দিচ্ছে যে সেই প্রিয়জন আর আসে না । অপরদিকে সেই প্রেমিকা স্মৃতি কেও গাছগুলি প্রতিনিয়ত ভারাক্রান্ত করে। এমন মন্তব্য করা হয়েছে তাই।



২০.একটা সপ্তাহ আর একটা বছর কেটে গেল — এখানে কী বোঝানো হয়েছে ?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা। প্রেমিক ও সৈনিক যুদ্ধে চলে যাবা যুদ্ধগামী এবং এবং বিরহখিন্ন। মাঝখানে না দেখাশোনার বিস্তার ব্যবধান। একজন অপেক্ষায় নেই, কারণ এই যুদ্ধে তাকে ক্রীতদাস করে দিয়েছে । আর একজন মিথ্যে অপেক্ষায় একটি একটি দিন গোনে। একটি দিন যায় একটি রাত যায় সপ্তাহ যায় বছরের পর বছর যায়। কিন্তুু একজন কোনদিনই আর ফিরবে না, অপর দিকে সেই মেয়েটি পথ চেয়ে বসেই থাকে।



২১. একটা কুকুর চলে গেল — উদ্ধৃতাংশটুকুর পর্য লেখো?


'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা। এই কবিতাটিতে এক ভয়ানক সত্যিকে তুলে ধরা হয়েছে ।

মানিষ মানুষের কাছে আসবে এবং দূরেও যাবে। পৃথিবীর এমন পরিণতি। বেদনায় পাথর হয়ে যাবে হৃদয়। যেমন কবিকে চিরতরে চলে যেতে হবে তার প্রিয়তমা নারীটিকে ত্যাগ করে। এবং বিশ্ব প্রকৃতির ভাবার অবকাশ নেই । কবি চলে গেলেও একই ছন্দে চলবে জীবনধারা । এখানে কুকুরটির চলে যাওয়ার জীবনধারা একটি চিত্র খন্ড । কুকুরেরা এভাবেই পথ দিয়ে চলে গেছে বহুদিন, এবং আজও যাবে আগামী দিনও যাবে । তাই এই কবিতার এমন প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে ।



২২. তারপর যুদ্ধ এলো — যুদ্ধ আসার পর কী হলো?



পাবলো নেরুদার লেখা এই 'অসুখী একজন' কবিতাটি। এখানে যুদ্ধ এলো বলতে রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো বীভৎস রূপ ধারণ করে । আগুন ধরে গেল সমতলে। ধ্বংস হলো মন্দির জনপদ দেবতারা উল্টে পড়লো মন্দির থেকে । এবং দেবতারা টুকরো টুকরো হয়ে পড়ল । তারাও রেহাই পেলাম না। এমন কি ছোট শিশুরাও। কবির এই মিষ্টি বাড়ি ছিল যেখানে বারান্দায় ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমাতেন। সেটি ধ্বংস হয়ে গেল । ধ্বংস হলো প্রয়োজনীয় সৌখিন সমস্ত জিনিস। এবং শহর ধ্বংস হয়ে গরিয়ে ছড়িয়ে পড়লো কাঠ কয়লার মতো এবং তোমরানি লোহার মতো। এবং বীভৎস মাথা রক্তের কালো দাগ । এই যুদ্ধের পরিণতিতে সব কিছু ছারখার হয়ে যায় । তাই এমন মন্তব্য করা হয়েছে ।



২৩. মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস / মাথা — এখানে আঁকা ছবিটি বুঝিয়ে দাও ?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা। যুদ্ধে সব কিছু ছাড়খার । শহরের ঘরবাড়ি, মন্দির, মূর্তি, সেতু, মিনার, গির্জা, সবই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে । মন্দির বা অন্যত্র গড়া যেসব মূর্তি রাখা ছিল, সমস্ত পুরে বিচূর্ণ হয়ে গেছে। মূর্তিগুলো বোমার আগুনে ঝলসে গেছে পুড়ে গেছে। পাথরের জীবন তো মূর্তি গুলো এখনো মৃত । তাদের মাথা গুলো কোথাকার হয়ে গেছে ।



২৪. শান্ত হল হলুদ দেবতারা — কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে ? দেবতাদের শান্ত হলুদ বলা হয়েছে কেনো?



'অসুখী একজন' কবিতাটি পাবলো নেরুদার লেখা। এখানে শান্ত হলুদ বলে উল্লেখ করেছেন একটা বিশেষ কটাক্ষ । দেব মহিমায় কবি মোটেই আশপাশীল নন। তার বৃষ্টিতে দেবো তারা শান্ত কারণ তারা সরকারি প্রতিক্রিয়া করে না। মন্দির ধ্বংস হয়ে গেলেও নয়। তাদের মূর্তি উল্টে পড়ে খন্ড খন্ড হয়ে গেলেও নয় । তারা নিষ্ক্রিয় সুদীর্ঘ অতীত থেকে অারোপিত বিশ্বাস কালের ঘায়ে উজ্জ্বলপিতভ ভাগ হয়ে গেছে। তাই আজ তারা হলুদ।






দশম শ্রেণির বাংলা অন্যান্য লেখা










পিডিএফ লিঙ্ক নিচে







আমাদের টেলিগ্রাম ও ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন
















-------------------------------------------------------------
File Name : অসুখী একজন [পাবলো নেরুদা] কবিতার ব্যাখ্যাধর্মী ৩ নম্বরের প্রশ্ন

File Format : পিডিএফ

File Language : বাংলা

File Location : গুগল ড্রাইভ

Download Link : অসুখী একজন [পাবলো নেরুদা] কবিতার ব্যাখ্যাধর্মী ৩ নম্বরের প্রশ্ন
-------------------------------------------------------------
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url