Class 10 মাধ্যমিক সংলাপ রচনা 2026 :
Class 10 মাধ্যমিক সংলাপ রচনা 2026
অনলাইন পঠন-পাঠনের ভালো-মন্দ নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
আকাশ: কিরে নীল, ল্যাপটপ খুলে বসে আছিস যে? কোনো অনলাইন ক্লাস আছে নাকি?
নীল: হ্যাঁ রে আকাশ, একটু পরেই ফিজিক্সের একটা স্পেশাল ক্লাস শুরু হবে। সত্যি বলতে কি, অনলাইন পঠন-পাঠন আসার পর আমাদের কত সুবিধা হয়েছে বল তো!
আকাশ: সুবিধা তো কিছু আছেই, কিন্তু অসুবিধাগুলোও কি তোর চোখে পড়ছে না? এই যে সারাদিন ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকিস, এতে চোখের তো খুব ক্ষতি হচ্ছে।
নীল: সেটা ঠিক, তবে ইতিবাচক দিকটাও দেখ। এই যে আমি এখন বাড়িতে বসে ভারতের সেরা শিক্ষকের কাছে পড়তে পারছি, এটা কি আগে সম্ভব ছিল? যাতায়াতের সময়টাও তো বেশ বেঁচে যাচ্ছে।
আকাশ: যাতায়াতের সময় বাঁচছে ঠিকই, কিন্তু স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সাথে সামনাসামনি বসে পড়ার যে আনন্দ, সেটা কি অনলাইনে পাওয়া যায়? তাছাড়া বাড়িতে একা একা পড়তে পড়তে অনেক সময় একঘেয়েমি চলে আসে। মনসংযোগও নষ্ট হয়।
নীল: তা তুই ঠিকই বলেছিস। স্কুলের সেই পরিবেশ অনলাইনে তৈরি করা কঠিন। কিন্তু অনলাইন ক্লাসের একটা দারুণ ব্যাপার হলো ‘রেকর্ডেড ভিডিও’। কোনো বিষয় একবার বুঝতে না পারলে আমরা সেটা বারবার দেখে নিতে পারি। প্রথাগত ক্লাসে তো শিক্ষক একবার বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ কম।
আকাশ: সব বিষয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু এটা খাটে না নীল। ধর বিজ্ঞান বা ভূগোলের ল্যাবরেটরিতে হাতে-কলমে যে কাজগুলো আমাদের করতে হয়, সেটা কি তুই ভিডিও দেখে শিখতে পারবি? প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান ছাড়া তো শিক্ষা অসম্পূর্ণ।
নীল: একদম বাস্তব কথা বলেছিস। আর গ্রামে যাদের ইন্টারনেট কানেকশন ভালো নয়, তাদের জন্য তো অনলাইন ক্লাস করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। নেটওয়ার্ক গোলমাল করলেই পড়া মাঝপথে থেমে যায়।
আকাশ: ঠিক তাই। আমার মনে হয় অনলাইন শিক্ষা একটা পরিপূরক মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু সেটা কখনোই স্কুলের বিকল্প হতে পারে না।
নীল: তোর সাথে আমি একমত। প্রযুক্তির সুযোগ তো নেবই, কিন্তু স্কুলের শৃঙ্খলা আর বন্ধুদের সাথে পারস্পরিক ভাব বিনিময়টাও খুব জরুরি। চল, এবার আমার ক্লাসের সময় হলো, পরে আবার কথা হবে।
খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
রাহুল: কিরে অর্পণ, তুই কি এখন মাঠে যাবি না? বিকেল তো হয়ে গেল, চল একটু ফুটবল খেলে আসি।
অর্পণ: ধুর ভাই, এখন কে যাবে মাঠে! তার চেয়ে ঘরে বসে মোবাইলে গেম খেলা অনেক বেশি আরামের। শরীরও ঘামবে না, ক্লান্তও হব না।
রাহুল: তুই একদম ভুল করছিস অর্পণ। সারাদিন ঘরে বসে মোবাইল ঘাটলে বা শুধু পড়াশোনা করলে শরীর আর মন দুটোই অলস হয়ে যায়। জানিস না, “সুস্থ দেহে সুস্থ মনের বাস”?
অর্পণ: তুই কি বলতে চাস খেললে পড়াশোনার খুব উন্নতি হবে?
রাহুল: অবশ্যই হবে! খেলাধুলা করলে আমাদের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, শরীর ফিট থাকে এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে পড়াশোনায় মন দেওয়া আরও সহজ হয়। আর মাঠে দৌড়ঝাঁপ করলে যে ঘাম ঝরে, তাতে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়।
অর্পণ: কিন্তু এখন তো সময় কম, সিলেবাস শেষ করতে হবে। খেলার জন্য সময় নষ্ট করা কি ঠিক হবে?
রাহুল: এটা সময় নষ্ট নয়, বরং সময়ের বিনিয়োগ। খেলাধুলা শুধু শরীর গঠন করে না, আমাদের মধ্যে ধৈর্য, নিয়মানুবর্তিতা এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করে। হার-জিত মেনে নেওয়ার ক্ষমতাও তৈরি হয় খেলার মাঠ থেকেই।
অর্পণ: তোর কথাগুলো তো বেশ যুক্তিপূর্ণ। ইদানীং আমারও কেমন যেন আলসেমি লাগে, সারাক্ষণ পিঠ আর ঘাড় ব্যথা করে।
রাহুল: এটাই তো স্বাভাবিক! নিয়মিত খেলাধুলা বা ব্যায়াম না করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। নিয়মিত খেললে তুই যেমন চনমনে থাকবি, তেমনই রাতের ঘুমটাও ভালো হবে।
অর্পণ: ঠিকই বলেছিস রাহুল। প্রযুক্তির নেশায় আমরা মাঠের আনন্দটা ভুলেই যাচ্ছিলাম। চল, আজ থেকেই তোর সাথে মাঠে যাওয়া শুরু করব। মোবাইল গেমের চেয়ে আসল খেলা অনেক বেশি দরকারি।
রাহুল: একদম! চল তবে, আজ মাঠেই আমাদের প্র্যাকটিস শুরু হোক।
পথ নিরাপত্তা বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
সায়ন: কিরে শুভম, মনটা খুব খারাপ মনে হচ্ছে? কী হয়েছে তোর?
শুভম: আর বলিস না সায়ন, আজ সকালে আসার পথে দেখলাম একটা বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল। একটা বাইক আরোহীকে ট্রাক ধাক্কা মারল। লোকটার মাথায় হেলমেট ছিল না বলে বেশ গুরুতর চোট পেয়েছে।
সায়ন: খুব দুঃখজনক! আসলে মানুষ এখনো পথ নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নয়। আমরা যদি ট্রাফিক নিয়মগুলো মেনে চলি, তবে অনেক দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব।
শুভম: একদম ঠিক। বিশেষ করে বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা আর গাড়ি চালানোর সময় সিট বেল্ট বাঁধা তো বাধ্যতামূলক। অথচ অনেকে স্টাইল দেখাতে গিয়ে বা তাড়াহুড়ো করে এগুলো ব্যবহার করে না।
সায়ন: শুধু তাই নয়, ইদানীং রাস্তা পার হওয়ার সময় বা গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করাটা একটা মস্ত বড় নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কানে হেডফোন দিয়ে রাস্তা পার হওয়া যে কত বড় ঝুঁকি, তা মানুষ বুঝতেই চায় না।
শুভম: আরেকটা জিনিস খেয়াল করেছিস? অনেক অল্পবয়সী ছেলেরা আজকাল রাস্তায় ‘র্যাশ ড্রাইভিং’ বা রেষারেষি করে। ট্রাফিক সিগন্যাল লাল থাকলেও তারা সিগন্যাল ভেঙে বেরিয়ে যায়। এতে নিজের প্রাণের সাথে সাথে অন্যের প্রাণও বিপন্ন হয়।
সায়ন: ঠিকই বলেছিস। পথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন তো কড়া হচ্ছেই, কিন্তু আমাদেরও সচেতন হতে হবে। জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়া বা ফুটপাথ ব্যবহার করা—এসব সাধারণ নিয়মগুলো আমাদের ছোটবেলা থেকেই মেনে চলা উচিত।
শুভম: সরকারিভাবে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ (Safe Drive Save Life) প্রচার চালানো হচ্ছে ঠিকই, তবে মানুষের উচিত আইন ভাঙার ভয় না করে নিজের জীবনের মায়ায় নিয়মগুলো মানা।
সায়ন: একদম। মনে রাখা উচিত, বাড়িতে প্রিয়জনরা আমাদের ফেরার অপেক্ষায় বসে আছেন। নিয়ম মানলে সময় একটু বেশি লাগতে পারে, কিন্তু প্রাণ তো বাঁচে।
শুভম: তোর সাথে একমত। আজ থেকে আমরাও চেষ্টা করব সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন করার। চল, এখন সাবধানে রাস্তা পার হই।
জলসংরক্ষণ ও তার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
রনি: কিরে সুমিত, রাস্তার ধারের ওই কলটা থেকে অঝোরে জল পড়ছে দেখছিস না? কেউ ওটা বন্ধ করার চেষ্টাও করছে না!
সুমিত: ধুর ভাই, একটা কল থেকে একটু জল পড়লে কী আর এমন ক্ষতি হবে? আমাদের তো গঙ্গার দেশ, জলের কি আর অভাব আছে?
রনি: তুই ভুল ভাবছিস সুমিত। পৃথিবীর সব জল কিন্তু পানযোগ্য নয়। ব্যবহারযোগ্য মিষ্টি জলের পরিমাণ খুব সামান্য। আমরা যদি এইভাবে অপচয় করি, তবে ভবিষ্যতে আমাদের এক ফোঁটা জলের জন্য হাহাকার করতে হবে।
সুমিত: কিন্তু বাড়িতে তো আমরা জল পাই-ই। তাহলে কেন এত চিন্তা করছিস?
রনি: দেখ, বর্তমানে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বা ‘ওয়াটার টেবিল’ দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় এখনই গ্রীষ্মকালে কুয়ো বা টিউবওয়েলে জল পাওয়া যায় না। চেন্নাই বা বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলোতে জলের কী ভয়ানক সংকট হয়েছিল, তা কি তুই ভুলে গেলি?
সুমিত: সেটা তো শুনেছি। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ কীভাবে জল বাঁচাতে পারি?
রনি: ছোট ছোট অভ্যাস দিয়েই শুরু করা যায়। যেমন—দাঁত মাজার সময় বা দাড়ি কাটার সময় কল খুলে না রাখা, বালতিতে জল নিয়ে স্নান করা, আর বৃষ্টির জলকে সংরক্ষণ করা। বৃষ্টির জল ধরে রাখলে সেটা বাগানে দেওয়া বা ঘর মোছার কাজে দিব্যি ব্যবহার করা যায়।
সুমিত: বৃষ্টির জল ধরে রাখা বা ‘রেন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’-এর কথা তো স্কুলেও পড়েছি। কিন্তু সেটা কি সত্যিই কার্যকরী?
রনি: অবশ্যই! এটি জলসংরক্ষণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। এতে মাটির তলার জলের ওপর চাপ কমে। এছাড়া রান্নাবান্না বা সবজি ধোয়ার জল ফেলে না দিয়ে গাছের গোড়ায় দিলেও তো জলের অপচয় কমে।
সুমিত: তোর কথা শুনে এখন বুঝতে পারছি, জল অপচয় করা মানে আসলে নিজের ভবিষ্যৎকেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া। আমি এখনই গিয়ে রাস্তার ধারের ওই কলটা বন্ধ করে আসছি।
রনি: একদম ঠিক। মনে রাখিস, “জলের অপচয় রোধ মানেই প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষা”। আমরা সচেতন না হলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
সুমিত: আজ থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করছি, নিজে তো জল বাঁচাবই, অন্যদেরও সচেতন করব। চল, কলটা আগে বন্ধ করি।
সংবাদপত্র পাঠের উপযোগিতা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
অনিমেষ: কিরে বিক্রম, হাতে ওটা কী? খবরের কাগজ নাকি? আজকেও তুই এই যুগে কাগজ নিয়ে বসে আছিস!
বিক্রম: হ্যাঁ রে অনিমেষ। প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাসটা আমার দীর্ঘদিনের। কেন রে, এতে তোর এত অবাক হওয়ার কী আছে?
অনিমেষ: অবাক হব না! এখন তো মোবাইলে এক ক্লিকেই সব খবর পাওয়া যায়। ফেসবুক, টুইটার বা নিউজ পোর্টালে তো সব আপডেট চটজলদি চলে আসে। খবরের কাগজের কী দরকার?
বিক্রম: তুই ঠিকই বলেছিস যে প্রযুক্তি অনেক এগিয়েছে। কিন্তু সংবাদপত্রের গুরুত্ব কি তাতে কমে যায়? খবরের কাগজ পড়ার মাধ্যমে যে গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী খবর পাওয়া যায়, তা সোশ্যাল মিডিয়ার ছোট ছোট ‘স্নিপেট’ থেকে পাওয়া অসম্ভব। তাছাড়া সংবাদপত্রের খবরের সত্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি থাকে।
অনিমেষ: তা হয়তো ঠিক, কিন্তু এতে তো সময় অনেক বেশি লাগে।
বিক্রম: সময় লাগলেও লাভ কিন্তু অনেক। প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়লে আমাদের সাধারণ জ্ঞান (General Knowledge) বাড়ে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিজ্ঞান—সব বিষয়ে একটা স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়। বিশেষ করে সম্পাদকীয় পাতাটা পড়লে আমাদের চিন্তাভাবনা ও শব্দভাণ্ডার উন্নত হয়।
অনিমেষ: শব্দভাণ্ডার বাড়ানোর কথাটা অবশ্য মন্দ বলিসনি। বাংলা বা ইংরেজি ভালো শেখার জন্য অনেকে খবরের কাগজ পড়তে বলে।
বিক্রম: একদম! শুধু তাই নয়, খবরের কাগজে দেশ-বিদেশের নানা খবরের পাশাপাশি চাকরির খবর, শিক্ষামূলক কলাম এবং সাহিত্যের পাতাও থাকে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংবাদপত্র হলো এক বিশাল জ্ঞানের ভাণ্ডার। এটা আমাদের সচেতন নাগরিক হতে সাহায্য করে।
অনিমেষ: আসলে আমরা তো এখন শুধু হেডলাইন পড়েই কাজ সারতে চাই। খবরের ভেতরের গভীরতা খোঁজার ধৈর্য আমাদের নেই।
বিক্রম: এটাই সমস্যা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় ভুল খবর বা গুজব ছড়ায়। কিন্তু নামী সংবাদপত্রগুলো দায়িত্ব নিয়ে খবর ছাপে। তাই খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাস আমাদের বিচারবুদ্ধিকেও শাণিত করে।
অনিমেষ: তোর কথা শুনে বুঝতে পারছি, মোবাইলে চটজলদি খবর দেখা আর ধীরেসুস্থে সংবাদপত্র পড়া—দুটোর মধ্যে অনেক তফাৎ। কাল থেকে আমিও বাবার সাথে খবরের কাগজটা একটু উল্টেপাল্টে দেখব।
বিক্রম: খুব ভালো সিদ্ধান্ত। দেখবি, এতে তোর কথা বলার ধরন আর জ্ঞান দুটোই কত সমৃদ্ধ হয়। চল, এখন টিউশনি যাওয়ার সময় হয়েছে।
মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি শেখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
অর্ক: কিরে ইশান, ইংরেজি গ্রামার বইটা নিয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছিস কেন? আমরা বাঙালি, মাতৃভাষা বাংলাটাই তো আমাদের জন্য যথেষ্ট, তাই না?
ইশান: তোর কথা আংশিক ঠিক অর্ক। মাতৃভাষা আমাদের পরিচয়, আমাদের আবেগ। কিন্তু বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে ইংরেজির গুরুত্বকেও অস্বীকার করা যায় না।
অর্ক: কেন বল তো? আমরা তো বাংলাতেই সব কাজ চালিয়ে নিতে পারি।
ইশান: সেটা হয়তো আমাদের রাজ্যের ভেতরে সম্ভব। কিন্তু তুই যখন উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যাবি বা বড় কোনো সংস্থায় চাকরির ইন্টারভিউ দিবি, তখন দেখবি ইংরেজিটা কতটা জরুরি। বিজ্ঞানের বই থেকে শুরু করে ইন্টারনেটের অধিকাংশ তথ্যই তো ইংরেজিতে।
অর্ক: তা ঠিক। গুগল বা ইউটিউবে কোনো কিছু খুঁজতে গেলে ইংরেজি জানলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
ইশান: শুধু তাই নয়, ইংরেজি হলো একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। তুই যদি ভারতের অন্য কোনো রাজ্যে বা বিদেশে বেড়াতে যাস, সেখানে বাংলা কেউ বুঝবে না। তখন এই ইংরেজিই হবে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। অর্থাৎ, এটি পৃথিবীর সাথে আমাদের সেতুবন্ধন তৈরি করে।
অর্ক: কিন্তু অনেকে তো মনে করে ইংরেজি শিখলে হয়তো আমরা আমাদের মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করছি।
ইশান: এটা একদম ভুল ধারণা। রবীন্দনাথ বা বিবেকানন্দও তো চমৎকার ইংরেজি জানতেন, তাই বলে কি তাঁরা বাংলাকে ভালোবাসতেন না? আসলে মাতৃভাষা হলো আমাদের ভিত্তি, আর ইংরেজি হলো বাইরের জগতের চাবিকাঠি। দুটো ভাষারই নিজস্ব গুরুত্ব আছে।
অর্ক: তোর কথাগুলো যুক্তিপূর্ণ। তার মানে আধুনিক বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা বাড়াতে হলে ইংরেজি শেখাটা এখন আবশ্যিক।
ইশান: একদম! তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে কম্পিউটার বা মোবাইল চালাতে গেলেও তো ইংরেজি শব্দের প্রয়োজন হয়। তাই মাতৃভাষায় দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও দখল থাকাটা খুব জরুরি।
অর্ক: বুঝলাম। আজ থেকে আমিও তবে ইংরেজিটা একটু মন দিয়ে শিখব। নিজের ভাষাকে ভালোবেসেও বিশ্ব নাগরিক হওয়া সম্ভব।
ইশান: খুব ভালো চিন্তা। চল, আজ দুজনে মিলেই এই অধ্যায়টা শেষ করি।
পরীক্ষায় পাশ-ফেল প্রথা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
সমীর: কিরে আকাশ, শুনলাম সরকার নাকি আবার নিচু ক্লাসেও পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে। এটা কি ঠিক হচ্ছে?
আকাশ: আমার তো মনে হয় এটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত। পাশ-ফেল না থাকলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পড়ার দায়বদ্ধতা থাকে না। সবাই জানে যে না পড়লেও পরের ক্লাসে উঠে যাবে, ফলে পড়াশোনার মান দিন দিন কমছে।
সমীর: তোর সাথে আমি একমত হতে পারছি না। পাশ-ফেল থাকলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ওপর একটা মানসিক চাপ তৈরি হয়। ফেল করার ভয়ে তারা কুঁকড়ে থাকে। অনেক সময় ব্যর্থতার গ্লানি সহ্য করতে না পেরে তারা পড়াশোনাই ছেড়ে দেয়।
আকাশ: চাপের একটা ইতিবাচক দিকও তো আছে সমীর। একটা লক্ষ্য না থাকলে কি কেউ পরিশ্রম করতে চায়? পাশ-ফেল থাকলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। কে কতটা শিখল, তা যাচাই করার জন্য একটা মাপকাঠি তো থাকা দরকার।
সমীর: মাপকাঠি অবশ্যই থাকবে, কিন্তু সেটা ‘ফেল’ করিয়ে কেন? মূল্যায়ন এমন হওয়া উচিত যেখানে শিক্ষার্থীর দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধন করা হবে। কোনো ছাত্র পিছিয়ে পড়লে তাকে সাহায্য না করে এক বছর পিছিয়ে দেওয়াটা কি কোনো সমাধান? এতে তো তার একটা বছর জীবন থেকে নষ্ট হয়ে যায়।
আকাশ: কিন্তু পাশ-ফেল না থাকায় দেখা যাচ্ছে অনেকে ক্লাস এইট বা নাইনে উঠেও ঠিকমতো রিডিং পড়তে পারছে না বা সাধারণ অংক পারছে না। কারণ তারা জানে পরীক্ষা দিলেই পাশ। এই ফাঁকি দেওয়ার মানসিকতা তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সমীর: শিক্ষা মানে তো শুধু নম্বর পাওয়া নয়। রবীন্দ্রনাথও তো পুঁথিগত শিক্ষার চেয়ে আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষার কথা বলেছিলেন। ফেল করার আতঙ্ক থাকলে শেখার আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। বরং পদ্ধতি এমন হোক যেখানে ছাত্রছাত্রীরা ভয়ে নয়, ভালোবেসে শিখবে।
আকাশ: তোর আদর্শবাদ শুনতে ভালো, কিন্তু বাস্তবে প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে টিকে থাকতে গেলে কঠোর পরিশ্রমের অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই তৈরি হওয়া দরকার। পাশ-ফেল ব্যবস্থা সেই শৃঙ্খলাটা ফিরিয়ে আনে।
সমীর: আসলে চরম কোনো পথই ঠিক নয়। পাশ-ফেল থাক বা না থাক, শিক্ষা ব্যবস্থার এমন সংস্কার হওয়া দরকার যাতে ছাত্রছাত্রীরা মানসিক চাপে না ভোগে আবার পড়াশোনায় ফাঁকিও না দেয়।
আকাশ: একদম ঠিক। পদ্ধতির আধুনিকীকরণ সবচেয়ে বেশি জরুরি। চল, আপাতত আমাদের পরীক্ষার জন্য পড়তে বসি!
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
রাতুল: কিরে অর্পণ, কী অবস্থা তোর? এমন মুখ ঢাকা দিয়ে কেন চলছিস?
অর্পণ: আর বলিস না রাতুল, রাস্তায় যে পরিমাণ ধোঁয়া আর ধুলো—নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। পরিবেশটা দিন দিন কেমন বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে দেখছিস?
রাতুল: একদম ঠিক বলেছিস। শুধু বায়ুদূষণ কেন, সাথে তো শব্দদূষণ আর জলদূষণও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এই যে যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক ফেলা আর গাছপালা কেটে ফেলা—এসবের ফল তো আমাদেরই ভোগ করতে হবে।
অর্পণ: সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো প্লাস্টিক। ড্রেনগুলো সব জ্যাম হয়ে থাকছে, আর একটু বৃষ্টি হলেই জল জমে যাচ্ছে। মানুষ সচেতন না হলে এর থেকে মুক্তি নেই।
রাতুল: শুধু মানুষ নয়, বড় বড় কলকারখানার বর্জ্য আর গাড়ির কালো ধোঁয়াও সমানভাবে দায়ী। অতিরিক্ত নগরায়নের ফলে আমরা প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছি। পৃথিবীটা যে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তার প্রমাণ তো আমরা এই অসময়ের গরমেই পাচ্ছি।
অর্পণ: ঠিকই বলেছিস। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে কী-ই বা করতে পারি?
রাতুল: কেন করতে পারব না? আমরা অন্তত ব্যক্তিগতভাবে কিছু নিয়ম মানতে পারি। যেমন—রাস্তায় আবর্জনা না ফেলা, প্লাস্টিকের ব্যাগের বদলে চটের ব্যাগ ব্যবহার করা আর গাছ লাগানো। বাড়ির আশেপাশে ছোট ছোট চারাগাছ লাগালেও কিন্তু অনেক অক্সিজেন পাওয়া যায়।
অর্পণ: তোর কথাগুলো ঠিক। আমাদের উচিত বন্ধুদের সাথে মিলে একটা ছোট সচেতনতা শিবির করা। লোকজনকে বোঝানো যে পরিবেশ বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব।
রাতুল: একদম। “একটি গাছ, একটি প্রাণ”—এই কথাটি যদি সবাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করত, তবে পৃথিবীটা আজ এমন মরুভূমি হতো না। সচেতনতাই হলো দূষণ কমানোর একমাত্র হাতিয়ার।
অর্পণ: আজ থেকে আমিও প্রতিজ্ঞা করছি, আমি তো পরিবেশের ক্ষতি করবই না, বরং অন্যদেরও দূষণ রোধে উৎসাহিত করব। চল, আজ বিকেলেই আমাদের পাড়ায় কয়েকটা গাছ লাগানোর কাজ শুরু করি।
রাতুল: দারুণ পরিকল্পনা! চল তবে, শুরুটা আমাদের থেকেই হোক।
মোবাইল ফোনের ভালো-মন্দ নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
আকাশ: কিরে সায়ন, সেই তখন থেকে দেখছি মোবাইলে মুখ গুঁজে আছিস। একটু ফোনটা রেখে বাইরের জগৎটা দেখ!
সায়ন: আরে ভাই, এখন তো মোবাইলই হলো আসল জগৎ। এই দেখ না, ইন্টারনেটে কত কিছু জানার আছে। প্রয়োজনীয় তথ্য খোঁজা থেকে শুরু করে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ—সবই তো এই এক যন্ত্রে।
আকাশ: তা ঠিক, মোবাইল আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু তুই কি লক্ষ্য করেছিস, আমরা এই যন্ত্রটার ওপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি? সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া আর গেম নিয়ে পড়ে থাকিস, এতে তোর পড়াশোনার কতটা ক্ষতি হচ্ছে ভেবে দেখেছিস?
সায়ন: ক্ষতির কথা কেন বলছিস? অনলাইন ক্লাসের সুবিধা, ইউটিউবে শিক্ষামূলক ভিডিও—এসব তো মোবাইলের মাধ্যমেই সম্ভব হচ্ছে। এমনকি পকেটে একটা মোবাইল থাকা মানে সাথে একটা আস্ত এনসাইক্লোপিডিয়া থাকা।
আকাশ: ভালো দিকগুলো আমি অস্বীকার করছি না। কিন্তু এর মন্দ দিকটাও তো কম নয়। সারাদিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের ক্ষতি হচ্ছে, রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, সামনাসামনি আড্ডা দেওয়ার চেয়ে মানুষ এখন ভার্চুয়াল চ্যাটেই বেশি ব্যস্ত। এতে আমাদের সামাজিক যোগাযোগগুলো কৃত্রিম হয়ে যাচ্ছে।
সায়ন: হুম, তুই ভুল বলিসনি। মাঝে মাঝে গেমের নেশায় আমার অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। আর ফেক নিউজ বা সাইবার ক্রাইমের ভয় তো আছেই।
আকাশ: একদম! ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের হাতে মোবাইল ফোন আসায় তাদের শৈশবটাও হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের বদলে ফোনের স্ক্রিনে। অতিরিক্ত রেডিয়েশন শরীরের পক্ষেও ক্ষতিকর।
সায়ন: আসলে যন্ত্রের কোনো দোষ নেই, দোষ হলো আমাদের ব্যবহারের। আমরা যদি নির্দিষ্ট সময়ে এবং কাজের প্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার করি, তবেই এটা আমাদের আশীর্বাদ।
আকাশ: ঠিক বলেছিস। মোবাইলকে জীবনের চালিকাশক্তি না বানিয়ে একে শুধু প্রয়োজনীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। পরিমিত ব্যবহারই পারে এর মন্দ দিকগুলো কমিয়ে আনতে।
সায়ন: তোর কথা শুনে আজ থেকে আমিও সচেতন হব। চল এখন ফোনটা রেখে একটু বাস্তবে আড্ডা দিই!
কম্পিউটারের উপযোগিতা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
অনিক: কিরে সুমিত, ল্যাপটপটা নিয়ে এত কী করছিস? কম্পিউটারের সামনে বসলে তুই তো দুনিয়া ভুলে যাস!
সুমিত: কী করব বল অনিক, বর্তমান যুগে কম্পিউটার ছাড়া কি এক মুহূর্ত চলা যায়? প্রজেক্টের কাজ থেকে শুরু করে নতুন কিছু শেখা—সবকিছুর জন্যই তো এই যন্ত্রটার দরকার।
অনিক: তা ঠিক, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় মানুষ কি তবে এই যন্ত্রটার দাস হয়ে পড়ছে না? সব কাজ যদি কম্পিউটারই করে দেয়, তবে মানুষের বুদ্ধির কী দাম রইল?
সুমিত: তুই ভুল ভাবছিস অনিক। কম্পিউটার আমাদের বুদ্ধি কেড়ে নেয়নি, বরং বুদ্ধিকে কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। দেখ না, বড় বড় গাণিতিক হিসাব বা জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা—যা মানুষের করতে কয়েক মাস লাগত, কম্পিউটার তা নিমিষেই নিখুঁতভাবে করে দিচ্ছে।
অনিক: নিখুঁত হওয়ার দিকটা মানছি। ভুল হওয়ার সম্ভাবনা এতে প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু এর বাইরে আর কী উপযোগিতা আছে?
সুমিত: আরে, শিক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসা, ব্যাঙ্কিং থেকে মহাকাশ গবেষণা—সবখানেই তো কম্পিউটারের জয়জয়কার। এই যে আমরা ঘরে বসে দূরদেশের মানুষের সাথে কথা বলছি বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করছি, এটা কি কম্পিউটার ছাড়া সম্ভব হতো?
অনিক: তা ঠিক। বিশেষ করে এই করোনাকালে অনলাইন ক্লাস আর ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর ক্ষেত্রে কম্পিউটার তো অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল।
সুমিত: শুধু তাই নয়, বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেও এর জুড়ি নেই। গান শোনা, সিনেমা দেখা বা গ্রাফিক্সের কাজ করা—সবই তো এতে করা যায়। ইদানীং তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ফলে কম্পিউটারের ক্ষমতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
অনিক: তোর কথা শুনে বুঝলাম, আধুনিক সভ্যতার চাকা আসলে এই কম্পিউটারের ওপর ভিত্তি করেই ঘুরছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পিছিয়ে থাকতে না চাইলে আমাদের কম্পিউটারে দক্ষ হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
সুমিত: একদম ঠিক! তবে মনে রাখতে হবে কম্পিউটারকে যেন আমরা ভালো কাজে আর গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করি। অপব্যবহার করলে তো যেকোনো জিনিসেরই মন্দ দিক থাকে।
অনিক: ঠিকই বলেছিস। চল, তুই কী কাজ করছিস আমাকেও একটু শেখা। আমিও কম্পিউটারের ব্যবহারটা ভালো করে রপ্ত করতে চাই।
মোবাইল গেমের ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
রাহুল: কিরে সোহম, স্কুল থেকে ফিরেই ফোনে মুখ গুঁজে দিলি? চল না, একটু মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলি।
সোহম: ধুর ভাই! এখন এই নতুন গেমটার একটা লেভেল পার করতে হবে। মাঠে গিয়ে ঘাম ঝরানোর চেয়ে এই ভার্চুয়াল যুদ্ধে জেতার আনন্দ অনেক বেশি।
রাহুল: এই আনন্দটা কিন্তু তোর জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তুই কি খেয়াল করেছিস, ইদানীং তুই সবসময় খিটখিটে মেজাজে থাকিস? আর তোর চোখের নিচে কালিও পড়ে গেছে।
সোহম: একটু আধটু গেম খেললে এমন কিছু হয় না রাহুল। সবাই তো খেলে!
রাহুল: ‘একটু আধটু’ হলে ঠিক ছিল, কিন্তু তুই তো এতে আসক্ত হয়ে পড়ছিস। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একভাবে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে তোর ঘাড় আর পিঠে ব্যথা শুরু হয়েছে। তাছাড়া মোবাইলের নীল আলো চোখের রেটিনার মারাত্মক ক্ষতি করে।
সোহম: কিন্তু গেমে তো বুদ্ধিও লাগে। আমি তো নতুন নতুন কৌশল শিখছি।
রাহুল: কৌশল শিখছিস ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে মানুষের সাথে মেশার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছিস। সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিস তুই। আর সবচেয়ে ভয়ের কথা হলো, এই গেমগুলোর হিংসাত্মক দৃশ্য তোর মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইদানীং তো দেখছি তুই পড়ার সময়ও শুধু গেমের কথাই ভাবিস।
সোহম: তা অবশ্য সত্যি। কাল রাতেও গেমের কথা ভাবতে ভাবতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল, তাই আজ ক্লাসে খুব ঘুম পাচ্ছিল।
রাহুল: এটাই হলো আসক্তির লক্ষণ। অনেকে তো গেমে জেতার নেশায় বা ‘ইন-গেম পারচেজ’-এর চক্করে পড়ে টাকাও নষ্ট করছে। শরীর চর্চা নেই, সঠিক সময়ে খাওয়া নেই—এভাবে চললে তুই অকালেই অসুস্থ হয়ে পড়বি।
সোহম: তোর কথাগুলো আজ আমায় ভাবিয়ে তুলল রে। আসলে আমি বুঝতেই পারিনি কখন গেমটা আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে।
রাহুল: ঠিক তাই। প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়া ভালো, কিন্তু তার দাস হওয়া ঠিক নয়। মাঠের আসল লড়াই তোকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করবে, যা এই মোবাইল গেম কোনোদিন পারবে না।
সোহম: তুই ঠিকই বলেছিস রাহুল। আজ থেকে আমি গেমিংয়ের সময় বেঁধে দেব। চল, আজ অনেক দিন পর মাঠেই ফুটবল খেলি!
রাহুল: এই তো বন্ধুর মতো কথা! চল তবে।
প্লাস্টিক ব্যবহারের ভয়াবহতা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
অনিমেষ: কিরে সুজয়, বাজার থেকে ফিরলি? কিন্তু তোর হাতে ওগুলো কি সব প্লাস্টিকের ব্যাগ?
সুজয়: হ্যাঁ রে অনিমেষ। দোকানদার দিল, তাই নিয়ে নিলাম। প্লাস্টিক তো বেশ সুবিধাজনক, ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় নেই আর জলেরও কোনো সমস্যা নেই।
অনিমেষ: সুবিধাজনক ঠিকই, কিন্তু এর ভয়াবহতার কথা কি একবারও ভেবে দেখেছিস? প্লাস্টিক হলো এমন এক পদার্থ যা হাজার বছরেও মাটিতে মিশে যায় না। একে বলা হয় ‘নন-বায়োডিগ্রেডেবল’ বর্জ্য।
সুজয়: তা মাটির সাথে না মিশলে আমাদের কী ক্ষতি হবে?
অনিমেষ: ক্ষতি মারাত্মক! এই প্লাস্টিক মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয়। আবার বৃষ্টির সময় এই প্লাস্টিকের ব্যাগগুলোই ড্রেন বা নর্দমায় আটকে গিয়ে জল নিকাশ বন্ধ করে দেয়। গতবার আমাদের এলাকায় যে কৃত্রিম বন্যা হলো, তার প্রধান কারণই ছিল প্লাস্টিক।
সুজয়: সেটা তো ঠিক। তবে প্লাস্টিক পুড়িয়ে দিলে তো ঝামেলা মিটে যায়!
অনিমেষ: একদম নয়! প্লাস্টিক পোড়ালে ‘ডাইঅক্সিন’-এর মতো মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুদূষণ ঘটায় এবং মানুষের ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি সমুদ্রে যে প্লাস্টিক ফেলা হয়, তা খেয়ে হাজার হাজার সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে।
সুজয়: তুই তো দেখছি বেশ ভয়ের কথা শোনালি। আমি তো স্রেফ ব্যবহারের সুবিধার কথাই ভেবেছিলাম।
অনিমেষ: শুধু তাই নয় সুজয়, গরম খাবার বা পানীয় যদি প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা হয়, তবে তা রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরে ঢুকে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। প্লাস্টিক আসলে এক মন্থর বিষ (Slow Poison)।
সুজয়: তাহলে আমরা এর হাত থেকে বাঁচব কীভাবে? সব জায়গায় তো প্লাস্টিকেরই রাজত্ব!
অনিমেষ: আমাদের অভ্যাস বদলাতে হবে। বাজারের সময় চটের ব্যাগ বা কাপড়ের ব্যাগ সাথে রাখা উচিত। আর প্লাস্টিকের বদলে কাঁচ, স্টিল বা মাটির পাত্র ব্যবহার বাড়ানো দরকার। সরকারের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও আমাদের নিজেদের সচেতনতা বেশি জরুরি।
সুজয়: একদম ঠিক বলেছিস। আজ থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করছি আর প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করব না। এই প্লাস্টিকগুলোও আমি নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলে দেব যাতে যত্রতত্র ছড়িয়ে না পড়ে।
অনিমেষ: খুব ভালো সিদ্ধান্ত। আমরা সচেতন হলেই আমাদের পরিবেশকে সুস্থ ও সুন্দর রাখা সম্ভব। চল, বাকি বন্ধুদেরও এই বিষয়ে জানাই।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
রতন: কিরে বিকাশ, বাজার থেকে ফিরলি? থলে তো দেখছি বেশ হালকা, দামাদামি করে কিছু কিনতে পারলি না বুঝি?
বিকাশ: আর বলিস না রতন! বাজারে গেলেই এখন পকেটে টান পড়ছে। জিনিসের যা দাম বাড়ছে, তাতে মধ্যবিত্ত মানুষের বেঁচে থাকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলু থেকে শুরু করে ভোজ্য তেল—সবকিছুর দামই তো আকাশছোঁয়া।
রতন: একদম ঠিক বলেছিস। খবরের কাগজে দেখছিলাম রান্নার গ্যাসের দামও আবার বেড়েছে। মাসের শেষে গিয়ে সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে।
বিকাশ: আমার তো মনে হয় এর পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি বড় একটা কারণ। তারা অধিক মুনাফার আশায় জিনিসপত্র মজুত করে রাখে, ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় আর দাম বেড়ে যায়।
রতন: শুধু কালোবাজারি নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়া আর যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়াটাও একটা কারণ। জিনিসপত্র ট্রাকে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আনতেও তো এখন অনেক বেশি খরচ হচ্ছে।
বিকাশ: কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় তো সেই অনুপাতে বাড়ছে না। যাদের আয় নির্দিষ্ট, তাদের অবস্থা তো শোচনীয়। পুষ্টিকর খাবার কেনা তো দূরের কথা, সাধারণ ডাল-ভাত জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রতন: প্রশাসন যদি নিয়মিত বাজার মনিটরিং করত এবং অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিত, তবে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসত। এছাড়া সরকারি রেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।
বিকাশ: ঠিকই বলেছিস। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না থাকে, তবে সমাজ ও অর্থনীতি দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা শুধু আশা করতে পারি যে সরকার দ্রুত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে।
রতন: প্রার্থনা করি দামগুলো যেন একটু কমে, নইলে কদিন পর না খেয়ে থাকতে হবে। চল, এখন বাড়ি যাই।
বৃক্ষরোপণের উপযোগিতা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
অনিকেত: কিরে শুভ্র, এই রোদে চারাগাছগুলো নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস? এই গরমে গাছ লাগিয়ে কী লাভ?
শুভ্র: লাভ-লোকসানের কথা ভাবলে তো আর পৃথিবীটা বাঁচবে না অনিকেত। দেখছিস না দিন দিন গরম কেমন বাড়ছে? গাছপালা কমে যাচ্ছে বলেই তো আজ প্রকৃতির এই দশা। তাই ঠিক করেছি আমাদের পাড়ার পুকুর পাড়ে এই গাছগুলো লাগাব।
অনিকেত: তা একটা-দুটো গাছ লাগিয়ে কি আর পরিবেশের এই বিশাল পরিবর্তন আটকানো সম্ভব?
শুভ্র: অবশ্যই সম্ভব! একটা বড় গাছ যে পরিমাণ অক্সিজেন দেয়, তা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না, বাতাস থেকে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে বাতাসকে নির্মল রাখে। ছোট থেকেই যদি আমরা সবাই অন্তত একটা করে গাছ লাগাই, তবেই তো পৃথিবীটা আবার সবুজ হবে।
অনিকেত: সেটা অবশ্য ঠিক। আজকাল তো চারিদিকে শুধু কংক্রিটের জঙ্গল। গাছ না থাকলে তো বৃষ্টিও ঠিকমতো হবে না, তাই না?
শুভ্র: একদম! গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে, যা ভূমিক্ষয় রোধ করে। আর গাছই তো মেঘকে আহ্বান জানায় বৃষ্টির জন্য। বৃষ্টির অভাবে চাষবাসের যা ক্ষতি হচ্ছে, তার মূলে রয়েছে নির্বিচারে বৃক্ষছেদন।
অনিকেত: আমি তো শুধু ছায়া আর ফলের কথাই ভাবতাম। কিন্তু গাছ যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এত বড় ভূমিকা পালন করে, তা তোর কথা শুনে আজ ভালোমতো বুঝতে পারলাম।
শুভ্র: শুধু তাই নয়, পাখিদের বাসা তৈরি আর বন্যপ্রাণীদের আশ্রয়স্থলও তো এই গাছ। গাছ না থাকলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। “একটি গাছ, একটি প্রাণ”—এই কথাটি আমাদের শুধু মুখে বললে হবে না, কাজেও প্রমাণ করতে হবে।
অনিকেত: তুই ঠিকই বলেছিস শুভ্র। আমরা যদি এখন সচেতন না হই, তবে পরের প্রজন্মের জন্য আমরা শুধু একটা মরুভূমি রেখে যাব। দাঁড়া, আমি বাড়ি থেকে একটা কোদাল নিয়ে আসি। তোর সাথে আজ আমিও গাছ লাগাব।
শুভ্র: এই তো বন্ধুর মতো কথা! চল, দুজনে মিলেই আজকের কাজটা শুরু করি। পরিবেশ বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব।
সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো-মন্দ নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
আকাশ: কিরে নীল, সেই কখন থেকে দেখছি ফোনের স্ক্রিনে আঙুল ঘষছিস! ফেসবুক না ইনস্টাগ্রাম—কোনটাতে আছিস এখন?
নীল: এই তোরে, একটু ফেসবুকটা চেক করছিলাম। এখন তো সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া এক মুহূর্তও চলে না। সারা বিশ্বের খবর আর বন্ধুদের আপডেট তো এখানেই পাওয়া যায়।
আকাশ: তা ঠিক, কিন্তু তুই কি লক্ষ করেছিস তুই কতটা সময় এখানে নষ্ট করছিস? সোশ্যাল মিডিয়ার যেমন ভালো দিক আছে, তেমনই এর আসক্তি কিন্তু মারাত্মক।
নীল: আসক্তি কেন বলছিস? এই তো দেখ, কত শিক্ষামূলক গ্রুপ আছে, কত নতুন কিছু শেখা যায়। দূর দেশে থাকা বন্ধুর সাথেও মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। এটা তো বিজ্ঞানের এক আশীর্বাদ!
আকাশ: আশীর্বাদ তখনই, যখন আমরা একে সঠিকভাবে ব্যবহার করব। কিন্তু এখন অধিকাংশ মানুষ তো শুধু লাইক আর কমেন্টের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। এতে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’ নষ্ট হচ্ছে। এমনকি অনেক সময় ভুল খবর বা গুজব ছড়িয়ে সমাজে অশান্তিও তৈরি হয়।
নীল: গুজবের দিকটা অবশ্য অস্বীকার করা যায় না। অনেক সময় না জেনেই মানুষ ফেক নিউজ শেয়ার করে দেয়। আর সাইবার ক্রাইমের ভয় তো আছেই।
আকাশ: শুধু তাই নয়, সামনাসামনি কথা বলার আনন্দ আমরা হারিয়ে ফেলছি। মানুষ এখন পাশের মানুষের সাথে কথা না বলে ফোনের বন্ধুদের নিয়ে বেশি ব্যস্ত। আর ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটা তো তুই নিজেও বুঝতে পারছিস।
নীল: হ্যাঁ রে আকাশ, মাঝে মাঝে রিলস দেখতে দেখতে কখন যে দু-তিন ঘণ্টা পার হয়ে যায়, টেরই পাই না। পরের দিন সকালে পড়ার সময় খুব ক্লান্তি লাগে।
আকাশ: এটাই হলো এর মন্দ দিক। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়। অন্যের জৌলুসপূর্ণ জীবন দেখে অনেকে হীনম্মন্যতায় ভোগে। তাই আমাদের উচিত এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।
নীল: তুই ঠিকই বলেছিস। সোশ্যাল মিডিয়াকে আমাদের জীবনের চালিকাশক্তি হতে দেওয়া ঠিক হবে না। একে শুধু একটা কাজের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
আকাশ: একদম! প্রযুক্তির সুবিধা নেব ঠিকই, কিন্তু তার দাস হওয়া চলবে না। চল, এবার ফোনটা পকেটে ঢোকা, একটু বাস্তবে আড্ডা দিই।
বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
অনিক: কিরে সায়ন, লাইব্রেরি থেকে কী বই নিয়ে ফিরলি? এখন তো সবার হাতে স্মার্টফোন, তুই এখনো বইয়ের নেশা ছাড়তে পারলি না?
সায়ন: ঠিকই বলেছিস অনিক, হাতে এখন গুগল থাকলেও বই পড়ার যে আনন্দ আর তৃপ্তি, সেটা কি ফোনের স্ক্রিনে পাওয়া যায়? এই বইটা হলো বিভূতিভূষণের ‘আরণ্যক’। পড়লে মনে হয় যেন প্রকৃতির গভীরে হারিয়ে গেছি।
অনিক: কিন্তু এখন তো সব তথ্যই ইন্টারনেটে এক ক্লিকে পাওয়া যায়। তাহলে আলাদা করে সময় নষ্ট করে বই পড়ার দরকার কী?
সায়ন: তুই শুধু তথ্যের কথা ভাবছিস, কিন্তু বই তো শুধু তথ্য দেয় না, আমাদের চিন্তাশক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। স্মার্টফোনে আমরা যা দেখি তা তৈরি করা দৃশ্য, কিন্তু বই পড়ার সময় আমাদের মস্তিষ্ক নিজের মতো করে দৃশ্য তৈরি করে নেয়। এতে আমাদের কল্পনাশক্তি (Imagination) প্রবল হয়।
অনিক: কল্পনাশক্তি বাড়ার বিষয়টা তো ভেবে দেখিনি। আর কী কী উপকার হয় বই পড়লে?
সায়ন: সবথেকে বড় লাভ হলো শব্দভাণ্ডার ও ভাষার দখল। নিয়মিত ভালো লেখকের বই পড়লে আমাদের কথা বলা ও লেখার মান উন্নত হয়। এছাড়া বই হলো মানুষের পরম বন্ধু। একাকীত্ব দূর করতে বা মানসিক চাপ কমাতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই।
অনিক: সেটা ঠিক। মাঝে মাঝে আমিও অনুভব করি, সারাদিন মোবাইল ঘাটলে মাথা ঝিমঝিম করে, কিন্তু ভালো কোনো গল্প পড়লে মনটা শান্ত হয়।
সায়ন: একদম! বই আমাদের বিভিন্ন দেশ, কাল ও মানুষের অভিজ্ঞতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ঘরে বসেই আমরা পুরো পৃথিবীটা ঘুরে দেখতে পারি বইয়ের পাতায়। বিশেষ করে মনিষীদের জীবনী পড়লে জীবনের কঠিন সময়ে পথ চলার প্রেরণা পাওয়া যায়।
অনিক: তোর কথা শুনে বুঝলাম, বই পড়া মানে আসলে নিজের জ্ঞানের জগতটাকে বড় করা। আমরা এখন শুধু পরীক্ষার বই পড়ি, বাইরের জগতের বই পড়ার অভ্যাসটা আমাদের প্রায় নেই বললেই চলে।
সায়ন: এটাই সমস্যা। প্রকৃত শিক্ষিত হতে গেলে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও সাহিত্য, ইতিহাস বা বিজ্ঞানের বই পড়া জরুরি। বই পড়ার অভ্যাস আমাদের সুশৃঙ্খল হতে এবং বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক হতে সাহায্য করে।
অনিক: আজ থেকে আমিও তবে চেষ্টা করব। মোবাইল গেমের সময়টা কমিয়ে রোজ অন্তত কয়েক পাতা করে ভালো বই পড়ার অভ্যাস করব। তুই কাল আমাকে একটা ভালো গল্পের বই দিস তো।
সায়ন: অবশ্যই দেব। বই পড়ার নেশা একবার ধরলে দেখবি এর চেয়ে বড় সঙ্গী আর কেউ নেই। চল, এখন বাড়ি গিয়ে পড়া শুরু করি।
মাধ্যমিকের পর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
অনিমেষ: কিরে সুমিত! পরীক্ষা তো শেষ হলো, এখন তো বেশ নিশ্চিন্তে আছিস। কিন্তু ভেবেছিস কিছু? মাধ্যমিকের পর কোন বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করবি?
সুমিত: খুব চিন্তায় আছি রে অনিমেষ। কেউ বলছে সায়েন্স (Science) নিতে, আবার কারোর মতে আর্টস (Arts) নিয়ে পড়লে নাকি অনেক সময় পাওয়া যায়। তুই কী ঠিক করলি?
অনিমেষ: দেখ সুমিত, আমি তো বিজ্ঞান বিভাগ বা সায়েন্স নিয়েই পড়ব বলে ঠিক করেছি। আমার ছোটবেলা থেকেই অংক আর ফিজিক্স খুব ভালো লাগে। ভবিষ্যতে আমার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছে আছে।
সুমিত: সায়েন্স তো বেশ কঠিন রে! অনেক পরিশ্রম করতে হবে। আমার তো আবার ভূগোলের প্রতি খুব টান। আমি ভাবছি কলা বিভাগ বা আর্টস নিয়ে পড়ব। বড় হয়ে প্রশাসনিক কোনো কাজে, যেমন ডব্লিউবিসিএস (WBCS) অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখি আমি।
অনিমেষ: একদম ঠিক ভেবেছিস। আর্টস মানেই যে সহজ, তা কিন্তু নয়। লক্ষ্য যদি বড় থাকে তবে সব বিভাগেই পরিশ্রম করতে হয়। ইতিহাস, ভূগোল বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়লে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।
সুমিত: তুই ঠিকই বলেছিস। আসলে কারোর দেখাদেখি বা চাপে পড়ে কোনো বিভাগ বেছে নেওয়া ঠিক নয়। নিজের যে বিষয়ে আগ্রহ আছে, সেটা নিয়েই এগোনো উচিত। আমাদের ক্লাসের রাহুল তো আবার কমার্স (Commerce) নিয়ে পড়বে বলছে।
অনিমেষ: হ্যাঁ, ওর তো হিসাবনিকাশ আর ব্যবসার দিকে ঝোঁক বেশি। কমার্স নিয়ে পড়লে সিএ (CA) বা ব্যাংকিং সেক্টরে যাওয়ার ভালো সুযোগ থাকে। মূল কথা হলো, আমরা যেটাই নিই না কেন, এখন থেকেই যেন মন দিয়ে পড়ি।
সুমিত: একদম ঠিক। মাধ্যমিকের পরেই তো আসলে আমাদের আসল লড়াই শুরু। রেজাল্টটা বেরোলেই ভর্তি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দেব। আচ্ছা, তোর বাড়ির সবাই তোর সিদ্ধান্তে খুশি তো?
অনিমেষ: হ্যাঁ, বাবা-মা বলেছেন আমার যেটাতে ভালো লাগে আমি যেন সেটাই করি। তোর ক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই তাই?
সুমিত: হ্যাঁ রে, বাড়িতেও সবাই সায় দিয়েছেন। তবে পড়ার চাপের মাঝেও আমাদের এই বন্ধুত্বটা যেন অটুট থাকে।
অনিমেষ: তা তো থাকবেই রে! চল, আপাতত কয়েকটা দিন একটু ঘুরে নিই, তারপর তো আবার বইয়ের পাহাড় নিয়ে বসতে হবে।
সুমিত: ঠিক বলেছিস, চল তবে!
জলসংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
আকাশ: কিরে সায়ন, ওই কলটা থেকে কতক্ষণ ধরে জল পড়ছে দেখছিস? বালতি ভরে উপচে যাচ্ছে, অথচ তুই ফোন নিয়ে ব্যস্ত!
সায়ন: আরে রাখ তো আকাশ! মিউনিসিপ্যালিটির জল তো, পয়সা দিয়ে তো আর কিনতে হচ্ছে না। একটু জল পড়লে এমন কী আর ক্ষতি হবে? আমাদের দেশে তো জলের অভাব নেই।
আকাশ: তুই খুব ভুল ভাবছিস সায়ন। জলের অপর নাম জীবন। পৃথিবীর সব জল কিন্তু পানযোগ্য নয়। ব্যবহারযোগ্য মিষ্টি জলের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত। আমরা যদি এইভাবে অপচয় করি, তবে খুব শীঘ্রই আমাদের এক ফোঁটা জলের জন্য হাহাকার করতে হবে।
সায়ন: কেন? নদীর জল বা মাটির তলার জল তো অনেক আছে।
আকাশ: মাটির তলার জলের স্তর বা ‘ওয়াটার টেবিল’ কিন্তু দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত জল তোলার ফলে অনেক জায়গায় এখন টিউবওয়েলে জল পাওয়া যায় না। মরুভূমি অঞ্চলের কথা ছেড়ে দে, এখন তো আমাদের বাংলাতেও গরমকালে জলের সংকট দেখা দিচ্ছে।
সায়ন: কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ কীভাবে জল বাঁচাতে পারি? এটা তো সরকারের কাজ।
আকাশ: শুধু সরকারের নয়, এটা আমাদের সবার দায়িত্ব। দাঁত মাজার সময় কল খুলে না রাখা, বালতিতে জল নিয়ে স্নান করা এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা—এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। জানিস তো, ‘রেন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ বা বৃষ্টির জল ধরে রাখা জলসংকটের একটা মস্ত বড় সমাধান।
সায়ন: বৃষ্টির জল তো নোংরা হয়, ওটা দিয়ে কী হবে?
আকাশ: ওটা দিয়ে বাগানে জল দেওয়া, ঘর মোছা বা গাড়ি ধোয়ার কাজ অনায়াসেই করা যায়। এতে পানীয় জলের ওপর চাপ কমে। আজ যদি আমরা সচেতন না হই, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যদি কোনোদিন হয়, তবে তা হবে জলের জন্যই।
সায়ন: তোর কথাগুলো শুনে আজ বুঝতে পারছি জল অপচয় করা কতটা বড় অপরাধ। আমি তো স্রেফ অলসতার কারণে কলটা বন্ধ করিনি।
আকাশ: মনে রাখিস, “জলের অপচয় রোধ মানেই প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষা”। প্রকৃতি আমাদের সব দিয়েছে, কিন্তু সেটাকে নষ্ট করার অধিকার আমাদের নেই।
সায়ন: একদম ঠিক। আজ থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করছি এক ফোঁটা জলও অকারণে নষ্ট হতে দেব না। চল, আগে কলটা বন্ধ করি আর অন্যদেরও এই বিষয়ে সচেতন করি।
সেলফির নেশা সর্বনাশা: দুই বন্ধুর সংলাপ
রনি: কিরে সাগ্নিক! চল না, ওই পাহাড়ের একদম খাড়া ঢালের ধারটায় গিয়ে একটা সেলফি তুলি। ভিউটা যা আসবে না, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইকের বন্যা বয়ে যাবে!
সাগ্নিক: পাগল হয়েছিস রনি? দেখছিস না ওখানে পা রাখার জায়গা নেই? একটু পা পিছলে গেলেই হাজার ফুট নিচে! আর তুই বলছিস সেলফি তুলতে?
রনি: ধুর ভাই, তুই বড্ড বেশি ভয় পাস। আজকাল তো সবাই একটু অ্যাডভেঞ্চারাস ছবি দেয়। দেখিস, এটা পোস্ট করলে সবাই কেমন অবাক হয়ে যাবে।
সাগ্নিক: লোকে অবাক হোক বা না হোক, তুই যে নিজের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছিস সেটা বুঝতে পারছিস না। খবরের কাগজে রোজ দেখিস না—সেলফি তুলতে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে পড়ে মৃত্যু বা সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে যাওয়ার খবর? ওই একটা মুহূর্তের মোহের জন্য কত মানুষের জীবন অকালে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
রনি: তা অবশ্য ঠিক। মাঝে মাঝে আমিও ভাবি, আমরা আসলে ছবি তোলার নেশায় জায়গার গুরুত্ব বা বিপদটাই ভুলে যাই।
সাগ্নিক: এটাই তো আসক্তি। আমরা এখন কোনো সুন্দর জায়গায় গিয়ে সেই জায়গার সৌন্দর্য উপভোগ করার চেয়ে ক্যামেরায় বন্দি করতে বেশি ব্যস্ত থাকি। আমাদের মনোযোগ প্রকৃতির দিকে নয়, বরং ফোনের স্ক্রিনের দিকে থাকে। এতে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ বেড়ে যায়।
রনি: শুধু দুর্ঘটনা কেন, সেলফির নেশায় তো মানুষ এখন খুব আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। গ্রুপে আড্ডা দেওয়ার বদলে সবাই নিজের ভালো প্রোফাইল পিকচার তুলতেই ব্যস্ত থাকে।
সাগ্নিক: একদম তাই। মনোবিজ্ঞানীরা তো একে এক ধরনের মানসিক রোগ বলছেন। এই যে লাইক বা কমেন্ট পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা—এটা পূরণ না হলে অনেকে ডিপ্রেশনেও চলে যায়। মনে রাখিস রনি, কোনো একটা ছবি তোর জীবনের চেয়ে দামি হতে পারে না।
রনি: তোর কথাগুলো একদম বাস্তব সাগ্নিক। আসলে আমরা প্রযুক্তির নেশায় সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলছি। স্রেফ কয়েকটা লাইকের জন্য প্রাণ ঝুঁকির মুখে ফেলা সত্যিই বোকামি।
সাগ্নিক: ঠিক বুঝেছিস। ছবি তোলো, কিন্তু সেটা যেন নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে হয়। সেলফি যেন সেল-ধ্বংসের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
রনি: একদম ঠিক। চল ভাই, ওদিকে আর যাব না। এখানে নিরাপদ জায়গায় বসেই আমরা প্রকৃতির আনন্দ নিই। প্রাণের মায়া সবার আগে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ
রনি: কিরে শুভম, ইন্টারনেটে এত কী খুঁজছিস? সেই কখন থেকে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছিস!
শুভম: আরে রনি, সামনের সপ্তাহে আমাদের একটা প্রজেক্ট জমা দিতে হবে তো, তারই কিছু দরকারি তথ্য ইন্টারনেটে খুঁজছি। সত্যি বলতে কী, ইন্টারনেট না থাকলে আমাদের পড়াশোনা যে কী হতো!
রনি: তা ঠিক, এখন তো ইন্টারনেটের যুগ। কিন্তু তুই কি মনে করিস ইন্টারনেট কেবল পড়াশোনার জন্যই কাজে লাগে?
শুভম: একদমই নয়। ইন্টারনেটের উপযোগিতা তো এখন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে। এই যে ধর, আমরা মুহূর্তের মধ্যে দেশ-বিদেশের খবর পেয়ে যাচ্ছি, ঘরে বসে কেনাকাটা করছি কিংবা ট্রেনের টিকিট বুক করছি—সবই তো ইন্টারনেটের দৌলতে।
রনি: ঠিক বলেছিস। বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তো এক আমূল বিপ্লব এসেছে। আগে একটা চিঠি পৌঁছাতে কয়েক দিন লাগত, আর এখন ই-মেইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক সেকেন্ডে বার্তা পৌঁছে যায়। এমনকি ভিডিও কলের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সামনাসামনি কথা বলা যাচ্ছে।
শুভম: এছাড়া বিনোদনের কথা ভেবে দেখ। গান শোনা, সিনেমা দেখা বা জ্ঞানমূলক ভিডিও দেখা—সবই এখন হাতের মুঠোয়। এমনকি গুগল ম্যাপের সাহায্যে আমরা অচেনা জায়গায় অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারছি।
রনি: তবে সুবিধার পাশাপাশি এর অপব্যবহারের দিকটাও তো ভাবা দরকার। সারাদিন ইন্টারনেটে সময় নষ্ট করা বা সাইবার ক্রাইমের ঝুঁকি তো থেকেই যায়।
শুভম: সেটা তো যেকোনো প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই সত্য। আমরা যদি ইন্টারনেটকে সচেতনভাবে এবং সঠিক কাজে ব্যবহার করি, তবে এটি আধুনিক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ। ছাত্রছাত্রীদের জন্য তো এটি তথ্যের এক বিশাল মহাসমুদ্র।
রনি: একদম ঠিক। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পিছিয়ে থাকতে না চাইলে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার জানা আমাদের সবার জন্য আবশ্যিক।
শুভম: ঠিক বলেছিস। নে, আমার প্রজেক্টের তথ্যগুলো পাওয়া গেছে। এবার কাজটা শুরু করি।


