Class 10 দশম শ্রেণি প্রতিবেদন রচনা 2026


Class 10 দশম শ্রেণি প্রতিবেদন রচনা 2026 :

Class 10 দশম শ্রেণি প্রতিবেদন রচনা 2026

আলোচিত পয়েন্ট

১. বিদ্যালয়ে আয়োজিত বিজ্ঞান প্রদর্শনী

ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভাবনী ভাবনায় মুখরিত বিদ্যালয় : বিজ্ঞান প্রদর্শনী

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ২৯শে জানুয়ারি: বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গতকাল [*****] বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আয়োজিত হল এক বিশেষ বিজ্ঞান প্রদর্শনী। দিনভর চলা এই অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের তৈরি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেয়।

এদিন সকালে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ রায় প্রদীপ প্রজ্বলন করে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছিল। সৌরশক্তি চালিত কৃষিযন্ত্র, বায়ুদূষণ রোধকারী বিশেষ মাস্ক এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের অভিনব পদ্ধতি— এই বিষয়গুলি ছিল এবারের মূল আকর্ষণ।

উদ্বোধনী ভাষণে ড. রায় বলেন, “পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে এসে বিজ্ঞানের প্রয়োগ শিখতে পারলে তবেই দেশ প্রকৃত উন্নতির পথে এগোবে।” প্রদর্শনী শেষে শ্রেষ্ঠ তিনটি মডেলকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়। দিনভর অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক উৎসবের রূপ নেয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বিজ্ঞানভীতি দূর করতে প্রতি বছরই এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে।


২. সাড়ম্বরে পালিত রবীন্দ্রজয়ন্তী

বিদ্যালয়ে ২৫শে বৈশাখ পালন: শ্রদ্ধা ও সংস্কৃতিতে স্মরণ করা হলো কবিগুরুকে

নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন, ১০ই মে: গভীর শ্রদ্ধায় ও নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গতকাল [*****] বিদ্যালয়ে পালিত হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী। প্রখর দাবদাহ উপেক্ষা করেই সকাল থেকে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন বিদ্যালয়ের প্রবীণতম শিক্ষক। এরপর পরিবেশিত হয় সমবেত গান। বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক মঞ্চে একে একে অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত এবং নৃত্যনাট্য। দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত ‘তাসের দেশ’ নাটকের বিশেষ অংশটি উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের শেষে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তারা বর্তমান সমাজে রবীন্দ্র-দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোকপাত করেন। বিদ্যালয়ের এক ছাত্রের কথায়, “রবীন্দ্রনাথ শুধু পড়ার বিষয় নন, তিনি আমাদের জীবনের অঙ্গ।” জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


৩. বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উৎসবের সমাপ্তি

শতবর্ষের গৌরব: বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হল শতবর্ষ উৎসব

নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসাত, ২০শে জানুয়ারি: ঐতিহ্যবাহী [*****] বিদ্যালয়ে-এর শতবর্ষপূর্তি উৎসব গতকাল এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হল। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে।

উৎসবের শেষ দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বিদ্যালয়ের কৃতি প্রাক্তনীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এদিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা এলাকার প্রধান পথগুলি পরিক্রমা করে। শোভাযাত্রায় সুসজ্জিত ট্যাবলোর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ১৫০ বছরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

বিকেলে আয়োজিত স্মৃতিচারণ সভায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরা ফিরে যান তাঁদের হারানো স্কুল জীবনে। তাঁদের চোখেমুখে ছিল নস্ট্যালজিয়া। সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথিতযশা শিল্পীদের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরাও অংশগ্রহণ করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এই ১৫০ বছর কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন পূরণের ইতিহাস।” আতশবাজির প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক উৎসবের যবনিকা পতন ঘটে।


নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও বিপর্যস্ত জনজীবন

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা, ২৯ জানুয়ারি: বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে সবথেকে বড় আতঙ্কের নাম হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি। গত কয়েক মাস ধরে বাজারদরের যে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। চাল, ডাল, ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস— সবকিছুর দামই এখন আকাশছোঁয়া। স্থানীয় বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে আলু, পেঁয়াজ ও অন্যান্য আনাজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমনকি মরসুমি সবজি বাজারে পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও তার দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। মাছ, মাংস বা ডিমের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার এখন সাধারণ মধ্যবিত্তের পাত থেকে কার্যত হারিয়ে যেতে বসেছে।

এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ বর্তমান। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্যবাহী যানের ভাড়ার ওপর। এর ফলে গ্রাম থেকে শহরে আনাজ পৌঁছাতে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্যে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। বেশি লাভের আশায় গুদামে পণ্য মজুত করার ফলে সাধারণ ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতিও জোগানে টান পড়ার অন্যতম কারণ।

এই পরিস্থিতির ফলে সবথেকে বেশি সংকটে পড়েছেন দিনমজুর এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষরা। তাঁদের উপার্জনের প্রায় সবটাই খরচ হয়ে যাচ্ছে দু-বেলা অন্নের সংস্থানে। ফলে শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের মতো জরুরি ক্ষেত্রে অর্থের টান পড়ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, প্রশাসন যেন অবিলম্বে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কালোবাজারি রুখতে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন এবং রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সুলভ মূল্যে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে সাধারণ মানুষের এই চরম দুর্ভোগ অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

রাস্তাঘাটের বেহাল দশা: নিত্যদিনের ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

বিশেষ সংবাদদাতা, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি— সর্বত্রই রাস্তাঘাটের চরম বেহাল দশা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তার পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেই সব গর্তে জল জমে ডোবার আকার ধারণ করে, যার ফলে পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে যানবাহন চালক, সকলকেই চরম বিপদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই ভগ্নপ্রায় রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কার্যত প্রাণহানির ঝুঁকির সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অটো, টোটো বা রিকশার মতো ছোট যানবাহনগুলো উল্টে গিয়ে নিত্যদিন যাত্রী সাধারণ আহত হচ্ছেন। সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়ছেন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং অসুস্থ রোগীরা। কোনো জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ডাকলে রাস্তার খারাপ অবস্থার অজুহাত দেখিয়ে অনেক সময় চালকরা আসতে চান না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বর্ষাকালে কাদার স্তূপ আর গ্রীষ্মকালে ধুলোর দাপটে রাস্তার ধারের ব্যবসায়ীরাও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

আরো পড়ুন :  WB HS 4TH SEMESTER Bengali Syllabus and Number Pattern দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা চতুর্থ সেমেস্টারের সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভাকে বারবার লিখিত আবেদন জানানো সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো সদর্থক পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ। প্রতিবারই মেরামতির আশ্বাস দেওয়া হলেও তা কেবল জোড়াতালি বা সাময়িক সংস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে রাস্তাটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংস্কার করা হোক এবং জল নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো হোক। প্রশাসনের টনক না নড়লে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগী জনতা।

রাস্তায় মোবাইল ব্যবহারে অসতর্কতা: প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে অবহেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ২৯ জানুয়ারি: বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠলেও, রাস্তায় এর যথেচ্ছ ব্যবহার মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন খবরের কাগজে কান পাতলেই শোনা যায়, ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হওয়া বা কানে হেডফোন দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার খবর। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও বারংবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। মূলত পথচলতি পথচারী এবং চালক— উভয়েরই মোবাইলে নিমগ্ন থাকার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনা বা ফোনে মগ্ন থাকার ফলে মানুষের শ্রবণশক্তি ও পারিপার্শ্বিক বোধ সাময়িকভাবে কাজ করে না। ফলে পিছন থেকে আসা গাড়ির হর্ন বা ট্রেনের আওয়াজ তারা শুনতে পায় না। শুধু পথচারীই নয়, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাইক আরোহী বা গাড়ি চালকরাও হেলমেটের ভেতরে ফোন গুঁজে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালান। এতে চালকের মনোযোগ বিচ্যুত হয় এবং মুহূর্তের অসতর্কতায় ঘটে যায় বড়সড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বানানোর যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

রাস্তায় এই ধরণের দুর্ঘটনা রোধে কেবল আইন দিয়ে নয়, প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। ট্রাফিক পুলিশ মাঝেমধ্যেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত সাবধানতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে পথ নিরাপত্তা ও মোবাইলের অপব্যবহার সম্পর্কে আরও বেশি প্রচার চালানো জরুরি। মনে রাখা দরকার, একটি মুহূর্তের অসতর্কতা সারাজীবনের কান্না হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই রাস্তায় চলাচলের সময় মোবাইল ফোন পকেটে রাখাই শ্রেয়— এই বার্তা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

জমা জল ও মশাবাহিত রোগের দাপট: আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং যত্রতত্র জমে থাকা জল থেকে মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এলাকায় ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত নিকাশি নালা পরিষ্কার না হওয়া এবং যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ জমে থাকায় বৃষ্টির জল দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকছে, যা মশার বংশবিস্তারের আদর্শ জায়গায় পরিণত হয়েছে।

এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, পরিত্যক্ত জমি এবং নির্মাণাধীন বহুতলের নিচে জমে থাকা পরিষ্কার জলেই মূলত এডিস মশার জন্ম হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, অসচেতনতার কারণে অনেক বাড়িতেও টব বা ডাবের খোলার জমা জলে মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে তীব্র জ্বর, গায়ে ব্যথা ও প্লেটলেট কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলোতে ইতিমধ্যেই জ্বরে আক্রান্ত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রক্ত পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিগুলোতেও দীর্ঘ লাইন পড়ছে, যা পরিস্থিতি ভয়াবহতার প্রমাণ দেয়।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা মারার তেল ছড়ানো বা ব্লিচিং পাউডার দেওয়ার কাজ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য বলে দাবি বাসিন্দাদের। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। বাড়ির আশেপাশে জল জমতে না দেওয়া, রাতে মশারি টাঙিয়ে শোয়া এবং জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জমা জল দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে এবং নিয়মিত এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখলে এই মারণ রোগের প্রকোপ আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন শহর: চরম ভোগান্তিতে জনজীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: গত কয়েকদিনের একটানা ভারী বর্ষণে শহর ও সংলগ্ন এলাকার জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। নিকাশি ব্যবস্থার কঙ্কালসার দশা প্রকট করে তুলে রাস্তার ওপর দিয়ে বইছে জল। বহু নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। যাতায়াতের প্রধান রাস্তাগুলো এখন জলের নিচে, যার ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শহরের মূল বাজার এবং ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়। নর্দমার নোংরা জল উপচে ঢুকে পড়েছে রাস্তার ধারের দোকান ও বাসাবাড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিকাশি নালাগুলো সংস্কার না হওয়ায় এবং পলি জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা ডুবে যাচ্ছে। জমা জলের কারণে ইলেকট্রিক পোস্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন; অনেক ক্ষেত্রে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে রিকশা বা নৌকা।

পুরসভার পক্ষ থেকে পাম্প বসিয়ে জল নামানোর চেষ্টা করা হলেও বৃষ্টির দাপটে তা বিশেষ ফলপ্রসূ হচ্ছে না। জলমগ্ন এলাকায় পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে এবং পেটের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ শিবির খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং নিচু এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, কেবল সাময়িক সমাধান নয়, ভবিষ্যতে এই বিপর্যয় রুখতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা প্রয়োজন।

‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’: পথ সচেতনতায় জোর প্রশাসনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: পথ দুর্ঘটনা রুখতে এবং সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে পালিত হলো ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচি। আজ স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বসিরহাটের প্রধান মোড়গুলিতে এক বিশেষ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। পথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অকাল মৃত্যু রুখতে প্রশাসনের এই কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সাম্প্রতিককালে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গিয়েছে। আজকের কর্মসূচিতে পুলিশ আধিকারিকরা বাইক আরোহীদের হেলমেট পরার প্রয়োজনীয়তা এবং চারচাকা গাড়ির চালকদের সিট বেল্ট ব্যবহারের গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন। দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই হেলমেট না পরায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিনা হেলমেটের আরোহীদের গোলাপ ফুল দিয়ে সতর্ক করা হয় এবং ট্রাফিক নিয়ম সংবলিত লিফলেট বিলি করা হয়। পাশাপাশি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো যে দণ্ডনীয় অপরাধ, সে বিষয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক জানান, কেবল জেল বা জরিমানা দিয়ে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়, যেখানে পোস্টার ও স্লোগানের মাধ্যমে পথ নিরাপত্তার বার্তা প্রচার করা হয়। প্রশাসনের দাবি, ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ স্লোগানটি কেবল একটি প্রচার নয়, এটি প্রতিটি চালকের জীবনের মন্ত্র হওয়া উচিত। সঠিক সময়ে সচেতন হলে অনেক মূল্যবান প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

আরো পড়ুন :  WB HS 4TH SEMESTER Bengali Syllabus and Number Pattern দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা চতুর্থ সেমেস্টারের সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন

গাছ কাটার বিরুদ্ধে সোচ্চার এলাকাবাসী: প্রশাসনের দ্বারস্থ প্রকৃতিপ্রেমীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: উন্নয়নের দোহাই দিয়ে নির্বিচারে প্রাচীন গাছ কেটে ফেলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ল এলাকার মানুষ। আজ সকালে বসিরহাটের মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে কয়েকশো সাধারণ মানুষ ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই ছায়া সুনিবিড় গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

গত কয়েকদিন ধরে এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চওড়া করার নাম করে রাস্তার ধারের কয়েক দশকের পুরনো বহু বট, অশ্বত্থ ও কৃষ্ণচূড়া গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাছ কাটার আগে কোনো যথাযথ পরিকল্পনা করা হয়নি বা বিকল্প বনসৃজনের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকার বাস্তুতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি গ্রীষ্মকালে ছায়ার অভাব ও দূষণ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশকে এদিন রাস্তার কাটা পড়া গাছগুলিকে জড়িয়ে ধরে প্রতিবাদ জানাতেও দেখা যায়, যা বহু বছর আগের ‘চিপকো আন্দোলন’-এর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে।

বিক্ষোভের জেরে এদিন বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেন। প্রশাসনিক আশ্বাসে জানানো হয় যে, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আর একটিও গাছ কাটা হবে না এবং যে গাছগুলি ইতিমধ্যেই কাটা হয়েছে, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট জায়গায় অন্তত ১০ গুণ চারাগাছ রোপণ করা হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র চারাগাছ লাগালেই হবে না, সেই গাছগুলি যাতে বড় হয়ে ওঠে তার দায়িত্বও প্রশাসনকে নিতে হবে। পরিবেশ রক্ষার এই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়ে আজকের মতো বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।

ভয়াবহ জল সংকটের মুখে এলাকা: সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: বিশ্বজুড়ে উষ্ণায়ন এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ার ফলে আমাদের এলাকাতেও পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে গ্রীষ্মকাল আসার আগেই কুয়ো ও টিউবওয়েলগুলি শুকিয়ে যাওয়া এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য জল বাঁচিয়ে রাখতে এখনই ‘জল সংরক্ষণ’ বা ‘জল বাঁচাও’ কর্মসূচিকে গণআন্দোলনে রূপ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জল সংকটের প্রধান কারণ হলো জলের অপচয় এবং নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ জল তুলে নেওয়া। কৃষিকাজে অতিরিক্ত পাম্পের ব্যবহার এবং দৈনন্দিন জীবনে কল খুলে রাখা বা পাইপ দিয়ে জল নষ্ট করার ফলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এর পাশাপাশি পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে ফেলার ফলে বৃষ্টির জল আর মাটির নিচে পৌঁছাতে পারছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে অদূর ভবিষ্যতে পানীয় জলের জন্য হাহাকার আরও বাড়বে। এই সংকট মোচনের একমাত্র উপায় হলো ‘বৃষ্টির জল সংরক্ষণ’ বা Rainwater Harvesting। বাড়ির ছাদের জলকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধরে রেখে তা মাটির নিচে রিচার্জ করলে ভূগর্ভস্থ জলস্তরের উন্নতি সম্ভব।

ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জল ধরো জল ভরো’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন পুকুর খনন ও পুরোনো জলাশয় সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে কেবল সরকারি উদ্যোগে এই সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়। প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হতে হবে; স্নান করা বা ব্রাশ করার সময় অহেতুক কল খুলে না রাখা, বৃষ্টির জল সঞ্চয় করা এবং জলের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে সচেতনতা মূলক প্রচার চালানো হচ্ছে যাতে ‘বিন্দু বিন্দু জল, বাঁচার সম্বল’—এই মন্ত্রটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। বর্তমানের এই ছোট্ট সচেতনতাই পারে আমাদের পৃথিবীকে মরুভূমি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে।

জলাভূমি বুজিয়ে আবাসন নির্মাণ: বিপন্ন বাস্তুতন্ত্র, সরব পরিবেশপ্রেমীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: উন্নয়নের দোহাই দিয়ে এলাকার একের পর এক জলাভূমি ও পুকুর বুজিয়ে বহুতল আবাসন নির্মাণের হিড়িক চলায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে জনমনে। অসাধু প্রোমোটার চক্র এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের যোগসাজশে রাতের অন্ধকারে ছাই বা আবর্জনা ফেলে বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলি। এই বেআইনি কাজের ফলে একদিকে যেমন বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর।

পরিবেশবিদদের মতে, জলাভূমি হলো প্রকৃতির ‘স্পঞ্জ’ বা ‘ফুসফুস’। বৃষ্টির অতিরিক্ত জল এই জলাশয়গুলি শোষণ করে নেয়, যা বন্যার হাত থেকে এলাকাকে রক্ষা করে। এছাড়া জলাভূমি মাছ ও পরিযায়ী পাখিদের প্রধান আশ্রয়স্থল। কিন্তু সেই জলাশয় বুজিয়ে কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি করার ফলে এলাকার ভূগর্ভস্থ জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করতে গেলে অনেক সময় প্রোমোটারদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের একাংশের মদত ছাড়া এমন বেআইনি কাজ সম্ভব নয় বলেও দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে আজ এলাকার নাগরিক সমাজ ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই বেআইনি নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে হবে এবং বুজিয়ে ফেলা জলাশয়গুলিকে পুনরায় সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে যে, জলাভূমি সংরক্ষণে কড়া আইন রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সচেতন মহলের মতে, কেবল আইনি লড়াই নয়, প্রকৃতিকে বাঁচাতে সাধারণ মানুষকেও আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মোবাইল ফোনে চরম আসক্তি: বিপন্ন হচ্ছে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তির আশীর্বাদ হিসেবে মোবাইল ফোন আমাদের হাতে এলেও, বর্তমানে এর অপব্যবহার ও অতিরিক্ত আসক্তি যুবসমাজের কাছে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচরণ আর অনলাইন গেমের নেশায় মগ্ন থাকা— এই চিত্র এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে সামাজিক মেলামেশা, সবক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে নতুন প্রজন্মকে।

মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, এই আসক্তির ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক উভয় প্রকার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে ফোন ব্যবহারের ফলে ‘টেক্সট নেক’ (Text Neck) বা মেরুদণ্ডের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া চোখের জ্যোতি কমে যাওয়া, অনিদ্রা এবং মনঃসংযোগের অভাব এখন সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটছে মারাত্মকভাবে। ভার্চুয়াল জগতের লাইক-কমেন্টের মোহে পড়ে বাস্তবের সামাজিক সম্পর্কগুলি ফিকে হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অনলাইন গেমের নেশায় বা সাইবার অপরাধের ফাঁদে পড়ে কিশোর-কিশোরীরা অবসাদগ্রস্ত হয়ে আত্মহননের মতো পথও বেছে নিচ্ছে।

এই অন্ধকার থেকে যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানো এবং তাঁদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার আগে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। খেলাধুলা, বই পড়া এবং সৃজনশীল কাজে তরুণদের উৎসাহিত করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ক্ষতিকারক গেম বা সাইটগুলোর ওপর নজরদারি চালানো জরুরি। মনে রাখা দরকার, মোবাইল ফোন যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং আমরাই যেন প্রযুক্তির সঠিক নিয়ন্ত্রক হতে পারি। সচেতনতাই পারে আমাদের যুবশক্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে।

হারানো টাকা ও গয়না ভর্তি ব্যাগ ফেরালেন ট্যাক্সিচালক: সততার অনন্য নজির

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ২৯ জানুয়ারি: বর্তমানের স্বার্থপর ও যান্ত্রিক সমাজে আজও যে সততা ও মানবিকতা বেঁচে আছে, তার প্রমাণ দিলেন এক ট্যাক্সিচালক। গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার এক ট্যাক্সিচালক তাঁর গাড়িতে ফেলে যাওয়া যাত্রী সাধারণের কয়েক লক্ষ টাকার গয়না ও নগদ অর্থ ভর্তি ব্যাগ ফিরিয়ে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এই সততার কাহিনী এখন শহরজুড়ে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।

আরো পড়ুন :  WB HS 4TH SEMESTER Bengali Syllabus and Number Pattern দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা চতুর্থ সেমেস্টারের সিলেবাস ও নম্বর বিভাজন

সূত্র মারফত জানা গেছে, বালিগঞ্জের বাসিন্দা এক পরিবার হাওড়া স্টেশন থেকে ট্যাক্সিতে করে বাড়ি ফেরার সময় ভুলবশত তাঁদের একটি ব্যাগ গাড়ির পিছনের আসনেই ফেলে যান। বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর তাঁরা লক্ষ্য করেন যে ব্যাগটি নেই। ওই ব্যাগে কয়েক ভরি সোনার গয়না, মূল্যবান নথিপত্র এবং নগদ প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা ছিল। দিশেহারা হয়ে পরিবারটি যখন থানায় অভিযোগ জানানোর কথা ভাবছেন, ঠিক তখনই সেই ট্যাক্সিচালক নিজেই তাঁদের বাড়ির দরজায় এসে হাজির হন। গাড়ির নম্বর বা অন্য কোনো সূত্র ছাড়াই কেবল মানবিকতার টানে তিনি যাত্রীকে খুঁজে বের করেন।

ট্যাক্সিচালক মহঃ রহমত জানান, “গাড়ি গ্যারাজে রাখার সময় ব্যাগটি আমার নজরে আসে। একবারও মনে হয়নি যে এটা আমি রেখে দেব। অন্যের ঘাম ঝরানো পয়সা আত্মসাৎ করলে নিজের বরকত থাকে না।” তাঁর এই নিরহংকার জবাবে মুগ্ধ পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ও সামান্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। রহমত মিঞার এই কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সততা কোনো বিনিময় চায় না, তা অন্তরের এক স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। আজকের এই ঘটনা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে এক বড় শিক্ষা হয়ে রইল।

প্লাস্টিক ও পলিথিনের দাপট: বিপন্ন পরিবেশ, সংকটে জনস্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: বর্তমান সভ্যতায় প্লাস্টিক ও পলিথিন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠলেও, এর অতিব্যাবহার এখন পরিবেশের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার থেকে সওদা করা হোক বা দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজ— সবক্ষেত্রেই পলিথিন ব্যাগের অবাধ ব্যবহার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক নিষ্কাশন না হওয়ায় এই ‘ধীর গতির বিষ’ নিঃশব্দে আমাদের পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পলিথিন ও প্লাস্টিক হলো ‘নন-বায়োডিগ্রেডেবল’ বা জৈব-অবিশ্লেষ্য পদার্থ, যা শত শত বছরেও মাটিতে মিশে যায় না। যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলার ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর রিচার্জ হতে বাধা পাচ্ছে। অন্যদিকে, নিকাশি নালাগুলিতে প্লাস্টিক জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহর ও গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। এই জমে থাকা নোংরা জল মশার বংশবিস্তারের আদর্শ স্থানে পরিণত হচ্ছে, যার ফলে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতো মারণ রোগের প্রকোপ বাড়ছে। শুধু তাই নয়, প্লাস্টিক পোড়ালে যে বিষাক্ত ডাইঅক্সিন গ্যাস নির্গত হয়, তা বায়ুদূষণ ঘটানোর পাশাপাশি মানুষের ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সরকারি স্তরে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার আইন থাকলেও সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে তা কার্যকর হচ্ছে না। চটের ব্যাগ বা কাগজের ঠোঙার ব্যবহার বাড়িয়ে এবং প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার (Recycling) নিশ্চিত করে এই দূষণ কমানো সম্ভব। প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব নিতে হবে যাতে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি প্লাস্টিক-মুক্ত সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে পারি। মনে রাখা দরকার, আজ যদি আমরা প্লাস্টিক ত্যাগ না করি, তবে আগামী দিনে প্রকৃতি আমাদের ক্ষমা করবে না।

রক্তদানই জীবনদান: বসিরহাটে আয়োজিত মহতী রক্তদান শিবির

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: বর্তমান সময়ে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের তীব্র সংকট মেটাতে এবং মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলো স্থানীয় ‘নবদিগন্ত’ ক্লাব। আজ ক্লাব প্রাঙ্গণে সকাল ৯টা থেকে এক স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্থানীয় বিধায়ক প্রদীপ জ্বালিয়ে শিবিরের শুভ উদ্বোধন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, “রক্তের কোনো বিকল্প নেই, তাই মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তদানই শ্রেষ্ঠ দান।”

এদিন এলাকার যুবসমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় মহকুমা হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করেন। শিবিরে মোট ৮০ জন পুরুষ ও মহিলা উৎসাহের সঙ্গে রক্তদান করেন। রক্তদাতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাঁদের জলযোগের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রত্যেক রক্তদাতাকে একটি করে গাছের চারা ও মানপত্র প্রদান করে উৎসাহিত করা হয়। আয়োজক ক্লাবের সম্পাদক জানান যে, এই ধরণের সামাজিক কর্মকাণ্ড আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। রক্তদান যে কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, বরং এক পরম মানবিক কাজ—এই বার্তাই আজকের শিবিরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান: বড়সড় উদ্যোগ স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া বয়স্কদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় এগিয়ে এলো স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আজ সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় স্কুল প্রাঙ্গণে এক বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি শনাক্তকরণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। শিবিরে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে এলাকার প্রায় ২৫০ জন মানুষের চোখ পরীক্ষা করা হয়।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা রোগীদের ছানি, গ্লুকোমা এবং চালসে জনিত বিভিন্ন সমস্যা পরীক্ষা করেন। এদিন প্রায় ৬০ জন রোগীর চোখে ছানি ধরা পড়ে, যাদের আগামী সপ্তাহে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শিবিরের শেষে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকে ১০০ জন দুঃস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় চোখের ড্রপ বিতরণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা জানান যে, অর্থাভাবে তাঁরা এতদিন চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না, আজ এই সুযোগ পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত উপকৃত। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, অন্ধত্ব দূরীকরণে এই ধরণের গণ-সচেতনতা শিবির গ্রামীণ এলাকায় আরও বেশি করে করা প্রয়োজন।

সবুজায়নের লক্ষ্যে অবিচল: স্থানীয় বিদ্যালয়ে সাড়ম্বরে পালিত অরণ্য সপ্তাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: বিশ্ব উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় চারাগাছ রোপণের গুরুত্ব বোঝাতে আজ স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘অরণ্য সপ্তাহ’ পালন করা হলো। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা মিলে এক বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরি বের করেন। প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা এলাকাবাসীকে গাছ না কাটা এবং বেশি করে গাছ লাগানোর আবেদন জানান। এরপর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি আম গাছের চারা রোপণ করে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

এদিন বিদ্যালয়ের উদ্যান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ২০০টি বিভিন্ন প্রজাতির ছায়া প্রদানকারী ও ফলজ গাছের চারা (যেমন— মেহগনি, বকুল, পেয়ারা ও জাম) লাগানো হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অরণ্যের ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভূগোলের শিক্ষক বিস্তারিত তথ্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর হাতে একটি করে ফলের চারা তুলে দেওয়া হয় এবং সেটির বড় হওয়া পর্যন্ত পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণের শপথ করানো হয়। ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’—এই মন্ত্রটি যাতে কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তবে রূপ পায়, সেই লক্ষ্যেই আজকের এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।

আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জলের লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ: চালু হলো নতুন জলপ্রকল্প

নিজস্ব প্রতিনিধি, বসিরহাট, ২৯ জানুয়ারি: এলাকার দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যা ও আর্সেনিকের আতঙ্ক দূর করতে আজ এক নতুন জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করা হলো। রাজ্য সরকারের ‘জল স্বপ্ন’ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত এই জলপ্রকল্পটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ও বিডিও সাহেব। এতদিন এলাকার মানুষকে দূর-দূরান্ত থেকে পানীয় জল বয়ে আনতে হতো অথবা অস্বাস্থ্যকর কুয়োর জলের ওপর নির্ভর করতে হতো। এই নতুন প্রকল্প চালু হওয়ায় এখন থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে যাবে।

প্রায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে বিশাল একটি ওভারহেড ট্যাঙ্ক এবং অত্যাধুনিক পরিশ্রুতকরণ যন্ত্র বসানো হয়েছে। এটি প্রতিদিন কয়েক লক্ষ লিটার জল সরবরাহ করতে সক্ষম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের আধিকারিকরা জল অপচয় রোধের ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁরা জানান যে, মাটির নিচের জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাচ্ছে, তাই পানীয় জলের সঠিক ব্যবহার একান্ত কাম্য। গ্রামের বাসিন্দারা এই প্রকল্পের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং তাঁদের মতে, এটি এলাকার জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।


error: সংরক্ষিত !!
Scroll to Top