পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার প্রবন্ধ রচনা PDF : মানুষ ও প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্কের নামই হলো পরিবেশ। কিন্তু বর্তমান উন্নত ও যান্ত্রিক সভ্যতার দাপটে আমাদের চারপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জল, মাটি, বায়ু আজ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। পরিবেশের এই ভারসাম্যহীন অবস্থাকেই বলা হয় পরিবেশ দূষণ। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই দূষণ রোধ করা আজ সময়ের দাবি।
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার প্রবন্ধ রচনা PDF
১. 🌍 ভূমিকা – মানুষ ও প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্কের নামই হলো পরিবেশ। কিন্তু বর্তমান উন্নত ও যান্ত্রিক সভ্যতার দাপটে আমাদের চারপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জল, মাটি, বায়ু আজ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। পরিবেশের এই ভারসাম্যহীন অবস্থাকেই বলা হয় পরিবেশ দূষণ। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই দূষণ রোধ করা আজ সময়ের দাবি।
২. 🌬️ বায়ু দূষণ – কলকারখানার কালো ধোঁয়া, যানবাহনের বিষাক্ত গ্যাস (কার্বন মনোক্সাইড), এসি বা ফ্রিজ থেকে নির্গত সিএফসি (CFC) গ্যাস বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো রোগ বাড়ছে।
৩. 💧 জল দূষণ – শহর ও কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক সরাসরি নদী বা পুকুরের জলে মেশার ফলে জল দূষণ ঘটছে। এই বিষাক্ত জল পান করার ফলে কলেরা, জন্ডিস ও টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়াচ্ছে এবং জলজ প্রাণীরা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
৪. 🔇 শব্দ দূষণ – অপ্রয়োজনীয় হর্ন, মাইকের উচ্চ শব্দ, বাজির আওয়াজ এবং কলকারখানার বিকট শব্দে শব্দ দূষণ হয়। এটি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস করে, উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায় এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে।
৫. 🚜 মৃত্তিকা বা মাটি দূষণ – অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং পলিথিন মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। প্লাস্টিক মাটিতে পচে না, ফলে এটি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে। এতে ফসলের গুণমান কমে যাচ্ছে এবং পরোক্ষভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে।
৬. 🌡️ বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) – পরিবেশ দূষণের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, যাকে বলা হয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে উপকূলবর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
৭. 🛡️ প্রতিকারের উপায় – পরিবেশ রক্ষায় আমাদের নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নিতে হবে:
- বৃক্ষরোপণ: বেশি করে গাছ লাগানো এবং বনভূমি রক্ষা করা।
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাড়ির ও কারখানার বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা।
- পরিবেশবান্ধব জ্বালানি: কয়লা বা পেট্রোলের বদলে সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
- জনসচেতনতা: সাধারণ মানুষকে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বোঝানো এবং সরকারি আইন কঠোরভাবে পালন করা।
৮. ✅ উপসংহার – পৃথিবী আমাদের একমাত্র আবাসস্থল। পরিবেশ দূষিত হলে মানবসভ্যতা ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী রেখে যেতে হলে আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। “গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান”—এই মন্ত্রেই আমাদের দীক্ষিত হতে হবে।


