Ebook + PDF Easy GK বাংলা রচনা
সাহিত্যের ইতিহাস BA MA বাংলা Question-Paper
WBCS স্কুল নোটস Join Telegram

Ads Area

সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার থেকে রচনাধর্মী প্রশ্ন বড়ো প্রশ্ন স্বামী বিবেকানন্দ Suej Khale Hangar Shikar Long Question PDF Class XI



সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার থেকে রচনাধর্মী প্রশ্ন বড়ো প্রশ্ন স্বামী বিবেকানন্দ Suej Khale Hangar Shikar Long Question PDF Class XI






উৎস : ‘পরিব্রাজক’ গ্রন্থ। এই গ্রন্থের লেখাগুলি প্রথমে ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। ‘উদ্বোধন’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন—স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ।




২০২২ সালের একাদশ শ্রেণির পরীক্ষার সিলেবাস থেকে এই গদ্যটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের পরিক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন আসবে। সাধারণত হাঙ্গর শিকার সংক্রান্ত বিষয় থেকে প্রশ্ন নির্বাচন করা হয়নি। সুয়েজখালের বাণিজ্যিক দিক, প্রাচীম্ন ভারতের বাণিজ্য, ভারতের শ্রমজীবীদের সম্পর্কে স্বামীজীর ধারণা--এই অংশগুলি থেকে প্রশ্ন নির্বাচন করে উত্তর দেওয়া হয়েছে।



যে প্রশ্নগুলি রয়েছে(toc)


[১] ভারতের বাণিজ্যকে লেখক মানব-জাতির উন্নতির সম্ভবত সর্বপ্রধান কারণ বলছেন কেন? ব্যাখ্যা করো। [২০১৭]




সূচনা : স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘পরিব্রাজক’ গ্রন্থের অন্তর্গত একটি অসাধারণ গদ্য হলো ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’। আলোচ্য নিবন্ধে লেখক ভারতের প্রাচীন বাণিজ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা জানিয়েছেন।



কারণ ব্যাখ্যা : আমাদের দেশ ভারতবর্ষ প্রাচীনকালে সারা পৃথিবীর বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিগণিত হয়েছিল। স্বামীজী লিখেছেন—

“মানব-জাতির উন্নতির বর্তমান অবস্থার জন্য যতগুলি কারণ প্রাচীনকাল থেকে কাজ করছে, তার মধ্যে বোধহয় ভারতের বাণিজ্য সর্বপ্রধান”।

বহু প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষ বাণিজ্যের কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠেছিল। কৃষিতে উন্নত ও বাণিজ্যে সফল এই দেশ আমদানি ও রপ্তানি করত।

অতীতে বিশ্বের সূতি-কাপড়, তুলা, নীল, লাক্ষা, চাল, হীরে, মতি ইত্যাদি মূল্যবান বস্তু ভারত থেকে বাইরে পাঠানো হতো। এছাড়া উন্নতমানের রেশম, পশমিনা, কিংখাব ইত্যাদি এই দেশেই বহুল পরিমাণে উৎপন্ন হতো। প্রাচীনকাল থেকে উৎকৃষ্ট মশলা এখানেই উৎপন্ন হতো। লবঙ্গ, এলাচ, মরিচ, জায়ফল, জয়িত্রী প্রভৃতি নানাবিধ মশলার স্থান হয়ে উঠেছিল আমাদের ভারতবর্ষ।



স্বামীজী জানিয়েছেন তখন দুটি প্রধান ধারায় বাণিজ্য চলত। যথা—



এক. একটি ডাঙা পথে আফগানি ইরানি দেশ হয়ে।

দুই. অন্যটি জলপথে রেড-সি হয়ে।



এভাবে আমাদের এই ভারতবর্ষ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।



[২] ‘একথা ইওরোপীয়েরা স্বীকার করতে চায় না'—কোন কথা ইউরোপীয়েরা স্বীকার করতে চায় না? কেন চায় না ?




সূচনা : স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘পরিব্রাজক’ গ্রন্থের অন্তর্গত একটি অসাধারণ গদ্য হলো ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’। আলোচ্য নিবন্ধে লেখক ভারতের প্রাচীন বাণিজ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা জানিয়েছেন।



কোন কথা : স্বামীজী জানিয়েছেন, ভারতবর্ষ পৃথিবীর অন্যান্য সমৃদ্ধিশালী দেশগুলির আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপের দেশগুলি সেকথা স্বীকার করেনি। সেই প্রসঙ্গে এই উক্তি।

স্বীকার না করার কারণ : ইউরোপীয় দেশগুলি ভারতবর্ষের কৃতিত্বকে মেনে নেয়নি। স্বামীজী জানান—ব্যাবিলন, ইরান, গ্রিস, রোম ইত্যাদি দেশের বাণিজ্য একসময় ভারতের উপর নির্ভর করেই সম্পন্ন হতো।

তখন ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন নানাজাতির মানুষ। পোর্তুগিজরা ভারতে আসার নতুন পথ আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁদের অনুসরণ করেছিলেন ফরাসী, ওলন্দাজ, দিনেমার এবং অবশেষে ইংরেজ। এই প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন—



এক--'ভারতের লক্ষ্মী পোর্তুগালের উপর সদয়া হলেন’।

দুই—‘ইংরেজের ঘরে ভারতের বাণিজ্য, রাজস্ব-সমস্তই’।



সুতরাং স্বামীজী বলতে চেয়েছেন, ভারতের উপর নির্ভর করেই আজ ইংরেজ ‘সকলের উপর বড় জাত'। এখন আমেরিকার মতো দেশে ভারতের জিনিসপত্র অনেক স্থানে উৎপন্ন হওয়ায় ‘ভারতের আর কদর নাই’।

একসময়ে ভারতে উৎপন্ন সুতির কাপড়, তুলো, পাট, নীল, লাক্ষা, চাল, হীরে, মতি ইত্যাদি বিদেশে রপ্তানি হতো। ভারতের মতো নেটিভ দেশের কাছে ইউরোপ কখনও সেদিনের সেই ঋণের কথা স্বীকার করেনি।



[৩] ‘এ সুয়েজ খাল খাতস্থাপত্যের এক অদ্ভুত নিদর্শন।'—সুয়েজখাল সম্পর্কে এই মন্তব্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।




ভূমিকা—স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ (‘পরিব্রাজক’ গ্রন্থ) নামক গদ্য থেকে আলোচ্য অংশ নেওয়া হয়েছে। লেখক সুয়েজ খাল সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়েছেন।



মন্তব্যটির তাৎপর্য : প্রতিটি সভ্যতার নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। প্রাচীন মিশরে প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্টি হয়েছিল সুয়েজখাল। ফরাসি স্থপতি ফর্ডিনেন্ড লেসেপ্স এই খালটি খনন করেন।

এর ফলে ভূমধ্যসাগর আর লোহিত সাগরের সংযোগ হয়ে ইউরোপ আর ভারতবর্ষের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক সুবিধা হয়েছিল। স্বামীজী লিখেছেন—



“মানব-জাতির উন্নতির বর্তমান অবস্থার জন্য যতগুলি কারণ প্রাচীনকাল থেকে কাজ করছে, তার মধ্যে বোধ হয় ভারতের বাণিজ্য সর্বপ্রধান”।



এই খালের মাধ্যমে বাণিজ্য জাহাজ যাতায়াত করতে পারত সহজেই। সুয়েজ খাল সংস্করণের ফলে কোন জাহাজ কোথায় আছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এর ফলে এক স্টেশনের হুকুম না পেলে অন্য স্টেশন থেকে জাহাজ আসার অনুমোদন পায় না। এককথায় এই খাতস্থাপত্যের ফলে বাণিজ্যের নতুন পথ আবিষ্কৃত হয়েছে।



[৪] 'ভারতের বাণিজ্যের উপর নির্ভর করত।' কারা নির্ভর করত? এই নির্ভরতার ফল কী হয়েছিল?




রচনা পরিচয় : অংশটি নেওয়া হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দের ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ নামক নিবন্ধ থেকে। অংশটি ‘পরিব্রাজক’ গ্রন্থের অন্তর্গত।



কারা নির্ভর করত : নানাবিধ প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ আমাদের এই দেশ ভারতবর্ষ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের যোগসূত্র রচনা করেছিল। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি হল—১) বাবিল ২) ইরান ৪) রোম।



নির্ভরতার ফল : ইউরোপীয়রা স্বীকার করুক বা না করুক এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই যে, ভারতবর্ষ ইউরোপকে অনেক কিছু দিয়েছে। অতীতে দেশের যাবতীয় ঐশ্বর্য ভারতের বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করত।

সুতি কাপড়, তুলা, পাট, নীল, লাক্ষা, চাল, হীরে, মতি ইত্যাদি ভারতবর্ষ থেকে রপ্তানি হতো। এছাড়া উৎকৃষ্ট রেশমি, পশমিনা, কিংখাব ইত্যাদি এদেশের মতো কোথাও উৎপন্ন হতো না। আবার লবঙ্গ, এলাচ, মরিচ, জায়ফল, জয়িত্রি ইত্যাদি মশলা ভারতবর্ষ থেকে যেত।

কাজেই অতি প্রাচীনকাল থেকে যে দেশ যখন সভ্য হতো তখন ওই সকল জিনিসের জন্য তারা ভারতের উপর নির্ভর করত। তখন জলপথ ও স্থলপথে বাণিজ্য চলত। তাছাড়া রোম ধ্বংসের পর বাগদাদ, ভিনিস, জেনোয়া ভারতীয় বাণিজ্যে প্রধান পাশ্চাত্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।



[৫] ‘ভারতের আর তত কদর নাই।'—কদর না থাকার কারণ কী তা ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার' রচনা অবলম্বনে লেখো।




কদর না থাকার কারণ : ভারতবর্ষ সম্পর্কে স্বামীজীর গর্বের সীমা ছিল না। ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’ নামাঙ্কিত প্রবন্ধেও সেই গর্বের কথা রয়েছে। স্বামীজী লিখেছেন—

“অনাদি কাল হ'তে, উর্বরতায় আর বাণিজ্য-শিল্পে ভারতের মতো দেশ কি আর আছে?”

ইউরোপীয়রা স্বীকার করুক বা না করুক এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই যে, ভারতবর্ষ ইউরোপকে অনেক কিছু দিয়েছে। প্রাচীন দেশের যাবতীয় ঐশ্বর্য ভাণ্ডার ভারতের বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করত।

সুতি কাপড়, তুলা, পাট, নীল, লাক্ষা, চাল, হীরে, মতি ইত্যাদি ভারতবর্ষ থেকে রপ্তানি হতো। এছাড়া উৎকৃষ্ট রেশমি, পশমিনা, কিংখাব ইত্যাদি এদেশের মতো কোথাও উৎপন্ন হতো না। আবার লবঙ্গ, এলাচ, মরিচ, জায়ফল, জয়িত্রি ইত্যাদি মশলা ভারতবর্ষ থেকে যেত। স্বামীজী এজন্যে লিখেছেন—

“অতি প্রাচীনকাল হতেই যে দেশ যখন সভ্য হ'ত, তখন ঐ সকল জিনিসের জন্য ভারতের উপর নির্ভর।”

অবশ্য এখন আমেরিকা প্রভৃতি দেশে ভারতের জিনিসপত্র অনেক স্থানে ভারত অপেক্ষাও উত্তম উৎপন্ন হচ্ছে। তাই পূর্বের মতো ভারতের আর কদর নেই।



[৬] ‘হে ভারতের শ্রমজীবি।'—শ্রমজীবী সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দের ধারণা 'সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার' রচনা অবলম্বনে লেখো।




সূচনা : স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘পরিব্রাজক’ গ্রন্থের অন্তর্গত একটি অসাধারণ গদ্য হলো ‘সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার’। আলোচ্য নিবন্ধে লেখক ভারতের শ্রমজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের কৃতিত্বের কথা কৃতজ্ঞতা চিত্তের স্মরণ করেছেন।



শ্রমজীবী সম্পর্কে স্বামীজী



স্বামীজী দেখেছেন শ্রমজীবী মানুষ প্রতিনিয়ত কাজ করে চলে। কিন্তু তাদের কথা কেউ ভাবে না। এই প্রবন্ধের দশম অনুচ্ছেদে এসে স্বামীজী লিখেছেন—

“হে ভারতের শ্রমজীবি।...ভারতের চিরপদদলিত শ্রমজীবি ! — তোমাদের প্রণাম করি।”

তাঁর এই প্রণতি জ্ঞাপনের কারণ—তিনি জানেন অবহেলিত অপমানিত শ্রমজীবীরাই এই ভারতবর্ষের মূল শক্তি। এরা চাষ করে। এরা তাঁত বোনে। এরা নদীতে জাল ফেলে। এদের স্বজাতি কখনও মর্যাদা দেয়নি। এরা ব্রাত্য। এরা মন্ত্রহীন।

স্বামীজী দেখেছেন—যারা চিরকাল নীরবে কাজ করে চলেছে, তাদের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। স্বামীজীর মনে হয়েছে আমাদের পূর্বপুরুষরা তত্ত্বকথা লিখেছেন, কাব্যকথা লিখেছেন; কিন্তু এদের দুর্দশার কথা লেখেননি। এদের কথা স্বামীজী অন্যত্র উল্লেখ করেছেন—

“বল—মূর্খ ভারতবাসী, দরিদ্র ভারতবাসী, ব্রাহ্মণ ভারতবাসী, চণ্ডাল ভারতবাসী আমার ভাই।”



সুতরাং শ্রমজীবী মানুষকে তিনি অন্তর থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। এদের সম্পর্কে স্বামীজীর গভীর বিশ্বাস ছিল। এদেরকে তিনি ভাই ও আত্মীয় বলেছেন।







------------------------------------------
------------------------------------------
------------------------------------------




আমাদের টেলিগ্রাম ও ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন

👇👇👇👇


Join Telegram (demo)

Join Facebook (open)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Area