Ebook + PDF Easy GK GS Quiz
সাহিত্যের ইতিহাস BA MA বাংলা Question-Paper
WBCS স্কুল নোটস Join Telegram

১২টি বড়ো প্রশ্ন রচনাধর্মী প্রশ্ন বাসন্তিকস্বপ্নম্ | দ্বাদশ শ্রেণি সংস্কৃত | Basantika Swapnam Class 12 | Long Question Answer | PDF Download

১০টি বড়ো প্রশ্ন রচনাধর্মী প্রশ্ন  বাসন্তিকস্বপ্নম্ | দ্বাদশ শ্রেণি সংস্কৃত | Basantika Swapnam Class 12 | Long Question Answer | PDF Download






Q.1--রাজা ইন্দ্রবর্মা ও কৌমুদীর কথোপকথন বা যুক্তিতর্কের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। [২০১৫, ২০১৯]


[] শ্রীকৃষ্ণমাচার্য রচিত ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’ নামক নাট্যাংশে রাজা ইন্দ্রবর্মা ও কৌমুদীর দীর্ঘ কথোপকথন রয়েছে। ইন্দুশর্মার অনুরোধে বিরোধ মেটাতে পরস্পরের মধ্যে কথোপকথন যুক্তিতর্কের জায়গায় পৌঁছোয়। ইন্দ্রবর্মা ও কৌমুদীর কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে দুজনের চরিত্রের বিভিন্ন দিক উঠে আসে বলে, এই কথোপথন অংশ খুব গুরুত্বপূর্ণ।



(১) রাজা ইন্দ্রবর্মা প্রথমে কৌমুদীকে ‘বালিকা’ বলে স্নেহযুক্ত সম্বোধন করে বলেন যে, পিতার ইচ্ছার বিরোধিতা করা কৌমুদীর উচিত হয়নি। কৌমুদীর পতি/বর মকরন্দ যাকে তার পিতা পছন্দ করেছে সে যেমন তরুণ তেমনই রমণীয়। কৌমুদী তখন রাজাকে ভয় না পেয়ে অতি সাহসের সঙ্গে বলে যে, তার পছন্দের প্রার্থী বসন্তও মকরন্দের মতো বয়সে তরুণ ও রমণীয়।



(২) রাজার দ্বিতীয় বক্তব্য ছিল– বসন্ত প্রিয়দর্শন হলেও পিতার মতানুযায়ী বলা যায়, মকরন্দ বসন্তের চেয়ে অপেক্ষাকৃত প্রিয় হওয়া উচিত। রাজার কথার উত্তরে কৌমুদী বলে যে-- তার পিতা ইন্দুশর্মা যদি কৌমুদীর চোখ দিয়ে দেখতেন তবে বসন্তকেই শ্রেষ্ঠ বলে মনে করতেন।



(৩) রাজা পরেও কৌমুদীকে পিতার পছন্দের পাত্রকে বিবেচনা করতে বললে কৌমুদী রাজার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বলে যে তার সিদ্ধান্ত ভুল হলেও কিছু করার নেই– “বিস্মৃতং চ ময়া কিং কৰ্তব্যম্।”

তখন রাজা কৌমুদীকে ‘ভদ্রে’ বলে সম্বোধন করে তার প্রশংসা করে বলেন, কৌমুদী দেখতে সুন্দর, বয়সও অল্প। যদি পিতার আদেশ না মানে তবে দেশাচার লঙ্ঘনের দায়ে মৃত্যু অনিবার্য অথবা যাবজ্জীবন বিবাহ না-করে থাকতে হবে। কৌমুদীর দৃঢ়সংকল্প করে যে, বসন্তের জন্য সে রাজার যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবে। তবে বসন্তের স্থানে অন্য কাউকে বসাতে পারবে না।



(৪) পরিশেষে রাজা ইন্দ্রবর্মা কৌমুদীকে সতর্ক করে বলে—পিতার আদেশ তার মেনে নেওয়া উচিত নয়তো তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে।







Q.2--‘বাসন্তিকস্বপ্নম্'-এর প্রথম তিনটি শ্লোকের ভাবার্থ নিজের ভাষায় লেখো। বা, কনকলেখার সঙ্গে বিবাহ প্রসঙ্গে রাজা ইন্দ্রবর্মার আবেগের বর্ণনা দাও। [২০১৫]


[] শ্রীকৃষ্ণমাচার্য বিরচিত 'বাসস্তিকস্বপ্নম্' নাট্যাংশের শুরুতে দেখা যায় অবস্তীরাজ ইন্দ্রবর্মা ও তার বাগদত্তা কনকলেখা মাত্র চারদিন পরে অমাবস্যায তিথিতে বিবাহ উপলক্ষ্যে কথোপকথনে ব্যস্ত।



প্রথম তিনটি শ্লোকে রাজা ইন্দ্রবর্মার মনোভাব

অবন্তীরাজ ইন্দ্রবর্মার সঙ্গে কনকলেখার আর চারদিন পরে বিবাহ সম্পন্ন হবে। কিন্তু এই চারদিনের অপেক্ষা রাজার পক্ষে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি মদন শরে আক্রান্ত হয়ে বড়োই দুঃখিত। তাঁর আর ধৈর্য ধরে না। এই চারটি দিন কীভাবে কাটাবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি অধৈর্য হয়ে চাঁদকে দোষারোপ করছেন যে চাঁদ অত্যন্ত নির্দয়–-“শশাঙ্কঃ তু অতিনিঘৃণঃ।” কারণ হিসাবে তিনি মনে করেন, চাঁদ ক্ষয় হচ্ছে বটে কিন্তু এত ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে যে, সে যেন রাজাকে কষ্ট দিচ্ছে। প্রকৃতির নিয়মে কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ ক্ষয়ে ক্ষয়ে অমাবস্যার দিকে এগোচ্ছে। চাঁদ যেন রাজার সুখের দিনটা তাড়াতাড়ি আসতে দিচ্ছে না। এটি প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে অত্যন্ত নিষ্ঠুর কাজ।

রাজার কাছে অপেক্ষার দিনগুলি স্বাভাবিকের থেকেও দীর্ঘতর মনে হচ্ছে। এক-এক নাড়িকা (ক্ষণ) সময় তাঁর কাছে এক-এক যুগ বলে মনে হচ্ছে-–“নাড়িকাঽপি যুগায়তে।” বিরহের যন্ত্রণা এতটাই কষ্টকর রাজার কাছে।

কনকলেখা তাঁকে আশ্বস্ত করলে রাজা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে অনুচর প্রমোদকে আদেশ দিলেন রাজ্যের যুবকরা যেন দুঃখ ভুলে আনন্দে মেতে ওঠে। আর রাজা অস্ত্রের ব্যবহার দ্বারা কনকলেখার মন জয় না করে উৎসবের মাধ্যমে তাঁকে জীবনসঙ্গিনী করবেন।

মূল্যায়ন

আলোচ্য শ্লোকে অবস্তীরাজ ইন্দ্রবর্মার ধৈর্যচ্যুতি এবং অযথা চাঁদকে দোষারোপ তাঁর মতো রাজার পক্ষে শোভনীয় নয়।




Q.3--‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’ নাট্যাংশ অবলম্বনে কৌমুদীর চরিত্রের পরিচয় দাও। [২০১৬]


[] শ্রীকৃষ্ণমাচার্য বিরচিত ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’ নাট্যাংশের সীমিত পরিসরে কৌমুদীর চরিত্রের কিছু পরিচয় পাই। রাজা ইন্দ্রবর্মার সঙ্গে কথোপকথনের সময়ই কৌমুদী চরিত্রের বিভিন্ন দিক প্রকাশ পেয়েছে।

অকুতোভয় : কৌমুদী নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল। সাধারণত রাজার আদেশই হলো শেষ কথা। রাজার বিরুদ্ধাচরণ মানেই মৃত্যু। তবুও কৌমুদী নিজের ভালোবাসার পাত্রকে বিয়ে করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সুশীলা নারী : রাজা ইন্দ্রবর্মার সঙ্গে কথা বলার সময় পূজনীয় ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহিপতি, করুণানিধি, মহারাজ বলে সম্বোধন করে কথা বলা শুরু করেছে কৌমুদী।

বুদ্ধিমতী : রাজার প্রতিটি কথাকে কৌমুদী অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বুদ্ধির দ্বারা পরাস্ত করেছে। সে রাজাকে বলেছে, যদি তার বাবা ইন্দুশর্মা মেয়ের চোখ দিয়ে দেখেন তবে তিনি কন্যার প্রেমিককে ভালোবাসতে বাধ্য। কৌমুদীর কথার দ্বারা নাট্যকার সময়োপযোগী ভাবনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

সার্থক প্রেমিকা : কৌমুদীর চরিত্রের সবচেয়ে বড়ো গুণ সে আদর্শ প্রেমিকা। মৃত্যুর ভয়ে বা চিরকুমারী ব্রত সারাজীবন পালন করেও তার প্রেমিক বসন্তকে ছাড়তে রাজি নয়। কৌমুদীর ভাষায়, “বসন্তের জন্য আজীবন অবিবাহিত থাকতেও রাজি। তার জন্যে মরতেও পারি।”

[] নাট্যকার কৌমুদী চরিত্রের মাধ্যমে সময়োপযোগী এক প্রতিবাদী কণ্ঠ এবং আদর্শ প্রেমিকার স্বরূপ তুলে ধরেছেন।




Q.4--শ্রীকৃয়মাচার্য ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’ নাট্যাংশের মধ্য দিয়ে পাঠকদের কী কী বার্তা দিতে চেয়েছেন? [2016]


[] শ্রীকৃষ্ণমাচার্য ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’ নাট্যাংশের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে সময়োপযোগী ধ্যান-ধারণা তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছেন। পাঠ্য নাট্যাংশে যে যে বিষয় উঠে এসেছে তা আলোচিত হলো।

(১) দেশাচার : রাজার কর্তব্য দেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। তার জন্য কিছু দেশাচার সকলকে মানতে হয়। তা না হলে দেশে অনাচার সৃষ্টি হবে। আলোচ্য নাট্যাংশে রাজা ইন্দ্রবর্মা নিজেই একজন প্রেমিক। প্রেমিক হয়ে কৌমুদীর মতো অল্পবয়সি সুন্দরীর প্রেমকে অস্বীকার করতে পারেন না। আবার দেশাচার অনুসারে গুরুজন তথা পিতার আদেশ মান্য করা উচিত। এই দুয়ের দ্বন্দ্বে রাজা দিশেহারা। তাই তিনি প্রথমে বালিকা কৌমুদীকে ‘বালিকা’ সম্বোধনে মকরন্দের প্রশংসা করে তার প্রতি আকৃষ্ট করতে সচেষ্ট হন। তর্কে বুদ্ধিমতী কৌমুদীর কাছে হেরে, রাজদণ্ডের ভয় দেখিয়ে ইন্দুশর্মাকে খুশি করার চেষ্টা করেন।

(২) সমব্যথীভাব : প্রকৃত রাজা হলেন দেশের পিতা। প্রজারা হল তাঁর সন্তানের মতো। রাজার উচিত প্রজাদের সুখ ও দুঃখে অংশীদার হওয়া। এই গুণাবলি বৃদ্ধ ইন্দুশর্মার প্রতি রজত আচরণ, অবন্তী নগরে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দের প্রচার, সংগীতশালায় সকলের অংশগ্রহণের মধ্যে নাট্যকার দেখাতে চেয়েছেন।

(৩) শিষ্টাচার : মানুষের মহত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায় তার ব্যবহারের মাধ্যমে, যেমন-– গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, ছোটোদের স্নেহ করা, দুঃখী ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতিশীলতা, গুরুজনদের আদেশ মান্য করা, সকলকে তার গুণ অনুসারে মর্যাদা দেওয়া প্রভৃতি। নাট্যকার ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্' নাট্যাংশে এই শিষ্টাচার দেখিয়েছেন।

(৪) সময়োপযোগী ভাবনা : নাট্যকার যেমন শিষ্টাচার, দেশাচারকে গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনই তরুণ-তরুণীর ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে কৌমুদীর মুখে প্রতিবাদী ভাবনা দিয়েছেন।





Q.5—আলোচ্য নাট্যাংশের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে লেখ। [২০১৭]


[] শ্রীকৃষ্ণমাচার্য পাঠ্য ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’ নাট্যাংশের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে সময়োপযোগী ধ্যান-ধারণা তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছেন।

[] অবন্তী দেশের রাজা ইন্দ্রবর্মা ও কলকলেখার চারদিন বাদে অমাবস্যা তিথিতে শুভ পরিণয় সম্পন্ন হবে। কিন্তু রাজার এই চারদিন আর কাটে না। তবে কনকলেখা তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, ওই চারদিন স্বপ্নের মতো কেটে যাবে। তাই রাজা অবস্তী নগরে মহোৎসবের আয়োজন করতে বলেন তাঁর পরিচারক প্রমোদকে।

এমন সময় ক্রুদ্ধ ও শোকার্ত বৃদ্ধ ইন্দুশর্মা তার মেয়ে কৌমুদীর বিরুদ্ধে বিচারের আশায় তাকে সঙ্গে নিয়ে রাজার কাছে হাজির। তাঁর অভিযোগ হল তাঁর কন্যা কৌমুদী পিতার পছন্দ করা পাত্র মকরন্দকে বিবাহ করতে চাইছে না। তাই সেই অধম কন্যার শাস্তি চান।

রাজা ইন্দ্রবর্মা কৌমুদীকে নানাভাবে বোঝাতে থাকেন। কিন্তু কৌমুদী তার পছন্দমতো যুবক বসন্তকে বিবাহ করতে চায়। রাজা ইন্দ্রবর্মা কৌমুদীর সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করতে বলেন। তা যদি সে না-করে তবে তার মৃত্যু অনিবার্য। অথবা যতদিন সে বেঁচে থাকবে চিরকুমারী হয়ে বেঁচে থাকতে হবে, যেটা তার মতো সুন্দরী অল্পবয়সি মেয়ের মঙ্গল করতে পারে না।

কৌমুদী মৃত্যুকে ভয় পায় না। সে বসন্তকেই বিয়ে করবে। তার জন্য সে নিজের জীবন পর্যন্ত ত্যাগ করতেও প্রস্তুত। এমন সময় সংগীতের আসরে তাঁদের ডাক পড়ে। তখন রাজা কৌমুদীকে আবার পিতার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করতে পরামর্শ দেন। তা না হলে রাজদণ্ডস্বরূপ মৃত্যু অবধারিত--এই বলে সেই স্থান ত্যাগ করেন।



Q.6--“বিজয়তাম্ অস্মাকম্ অবনিপঃ” – উক্তিটি কার? ‘অবনিপঃ' কে? বক্তা তাঁর কাছে কেন এসেছিলেন? [২০১৭]


[] দক্ষিণ ভারতের সংস্কৃত পণ্ডিত কৃষ্ণমাচার্য অনূদিত ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’-এর আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন অবন্তীবাসী একজন বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ ইন্দুশর্মা।

[] ‘অবনিপঃ’ কথার অর্থ ‘পৃথিবীপতি’। এখানে ‘অপনিপঃ’ হলেন অবন্তীরাজ ইন্দ্রবর্মা।

[] ইন্দ্রবর্মার কাছে ইন্দুশর্মার আসার কারণ--অবন্তীবাসী বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ ইন্দুশর্মা রাজা ইন্দ্রবর্মার কাছে এসেছেন সুবিচারের আশায়। ইন্দুশর্মার একমাত্র কন্যা কৌমুদী পিতার পছন্দের পাত্র মকরন্দকে বিবাহ না করে তার পছন্দের পাত্র বসন্তকে বিবাহ করতে চায়। এদিকে অবন্তীরাজ্যের নিয়ম হল পিতার পছন্দের পাত্রকেই বিয়ে করতে হবে। আর তা না করলে কঠোর শাস্তি - নয় আজীবন কুমারীব্রত ধারণ, নয় মৃত্যুবরণ।

জেদি কৌমুদী পিতার আদেশ অমান্য করে উক্ত দোষ করেছে। তাই ইন্দুশর্মা উক্ত সমস্যার সুবিচারের আশায় রাজা ইন্দ্রবর্মার কাছে এসেছিলেন।



Q.7—‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’ নাট্যাংশের চরিত্রগুলির পরিচয় দাও। [২০১৮]

[] সংস্কৃত পণ্ডিত আর কৃষ্ণমাচার্য বিরচিত ‘বাসস্তিকস্বপ্নম্’ নাটকে নির্বাচিত পাঠ্যাংশে আমরা মোট পাঁচটি চরিত্র পাই, সেগুলি হল – রাজা ইন্দ্রবর্মা, তাঁর ভাবী স্ত্রী কনকলেখা, প্রমোদ, ইন্দুশর্মা ও কৌমুদী।

[] রাজা ইন্দ্রবর্মা : অবন্তীরাজ ইন্দ্রবর্মা একজন প্রেমিক পুরুষ। কনকলেখার সঙ্গে বিয়ে হতে মাত্র চারদিন বাকি। তাতেই তিনি উৎকণ্ঠায় পীড়িত। রাজা হিসাবে সকলকে সমান চোখে দেখেন। নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ অসীম। কনকলেখার কথাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রজাবৎসল রাজা শত ব্যস্ততার মধ্যেও বৃদ্ধ ইন্দুশর্মার প্রার্থনায় গুরুত্ব দেন। সহমর্মী রাজা কৌমুদীর কথা মন দিয়ে শুনেছেন, আবার সুশাসক হয়ে পিতার অবাধ্য কৌমুদীকে কঠোর শাস্তির ইঙ্গিত করেন। সংগীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ অসীম।

[] কনকলেখা : রাজা ইন্দ্রবর্মার বাগদত্তা কনকলেখা যথার্থ গৃহিণীর মতো ঘরের মঙ্গল চেয়ে রাজাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। আনন্দপ্রিয়া কনকলেখা উৎসবে রাজাকে সাহায্য করেন। তাঁর মধ্যে রাজকর্তব্য জ্ঞান অসীম।

[] প্রমোদ : রাজা ইন্দ্রবর্মার যোগ্য অনুচর প্রমোদ রাজাদেশ পালনে তৎপর হলেও প্রভুকে সম্মান করতে ভুলে যায় না।

[] ইন্দুশর্মা : কৌমুদীর বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ পিতা ইন্দুশর্মা অত্যন্ত রাগী এবং মেয়ের আচরণে ক্রুদ্ধ ও শোকাহত। কিন্তু রাজাকে সম্মান করতে ভোলেননি। ইন্দুশর্মা আদর্শ পিতা হলেও স্নেহশীলা কন্যার প্রতি কঠোর আচরণ করেননি বরং রাজসমীপে শাস্তির প্রার্থনা করেছেন।

[] কৌমুদী : অল্প বয়সি কৌমুদী তার প্রেমিক বসন্তকে গভীরভাবে ভালোবাসে ৷ প্রেমের প্রতি সে একনিষ্ঠ। রাজার ভয়ে নিজের পছন্দ থেকে সরে আসেনি। এতে তার সাহসিকতা বা নির্ভীকতার পরিচয় পাই। তার মধ্যে শালীনতা বা শিষ্টাচারবোধ যথেষ্ট ছিল। আদর্শ প্রেমিকার মতো প্রাণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত ছিল।




Q.8--“নাড়িকাঽপি যুগায়তে”—বাক্যটি পাঠ্যাংশ অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো। [২০১৮]


[] দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃত পণ্ডিত কৃষ্ণমাচার্য রচিত ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’ নাটকের প্রথম অঙ্ক থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে।

[] প্রসঙ্গ : অবন্তীরাজ ইন্দ্রবর্মা কনকলেখার প্রেমে আসক্ত। তাদের বিবাহের শুভদিনও ধার্য হয়েছে। কিন্তু সময় যেন কাটতেই চাইছে না। রাজা ও কনকলেখা রাজপ্রাসাদে সেই কথাই বলেছিলেন। আর চারদিন কেটে গেলে চাঁদ ক্ষীণ হয়ে যাবে, তারপর বিবাহের শুভক্ষণ আসবে। কিন্তু প্রতীক্ষারত রাজা ধৈর্যহীন হয়ে পড়েছেন। তিনি কনকলেখাকে বলেছেন এক ক্ষণ (অল্প একটু) সময়ও যেন এক যুগ বলে মনে হচ্ছে, “নাড়িকাঽপি যুগায়তে।”

ছয় ক্ষণ বা ২৪ মিনিট পরিমিত সময়কে ‘নাড়িকা’ বলে। তবে নাট্যাংশে সামান্য ক্ষণ বা এক দণ্ডকাল অর্থ প্রকাশিত হয়েছে।

যুগায়তে অর্থাৎ এক যুগ হয়ে যাচ্ছে। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি--এই চারটি এক-একটি যুগ।

[] এখানে অবন্তীরাজ ইন্দ্রবর্মার ধৈর্যহীনতার পরিচয় পাই। চারদিন বাকি থাকলেও রাজা মনমরা। কামনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি চাঁদকে অতি নিষ্ঠুর বলছেন। রাজা সামান্য বিলম্বও সহ্য করতে পারছেন না। তাঁর কাছে ‘নাড়িকা’ অর্থাৎ এক দণ্ডকালও এক যুগ বলে মনে হচ্ছে, বিষাদগ্রস্ত রাজার ব্যাকুলতা তাঁর কথার মধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে।






Q.9--“কথয় বাসু, কিংবা যুক্তং সময়বিরুদ্ধাচরণম্”--উক্তিটির বক্তা কে? ‘বাসু’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? শ্রোতা কী বিরুদ্ধাচরণ করেছিল?


[] আর. কৃষ্ণমাচার্য রচিত ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’ নাট্যাংশের আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন অবন্তীরাজ ইন্দ্রবর্মা।

[] এখানে ‘বাসু’ বলতে কৌমুদীকে বোঝানো হয়েছে।

[] কৌমুদীর বিরুদ্ধাচরণ : সুশাসক রাজা ইন্দ্রবর্মা কৌমুদীকে রাজ্যের নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ করতে বারণ করেছেন। অবন্তী দেশের নিয়ম হল পিতার আদেশ অমান্য করে বিবাহ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কৌমুদী পিতার প্রিয়পাত্র মকরন্দকে বিবাহ করতে অনিচ্ছুক। অপরন্তু, পিতার অপছন্দের পাত্র বসন্তকেই বিয়ে করতে ইচ্ছুক। এ হেন অনাচারের বিরুদ্ধে তার পিতা ইন্দুশর্মা রাজার কাছে সুবিচারের আবেদন করেছেন।

রাজা কৌমুদীকে রাজ্যের নিয়মের বিরোধী না-হওয়ার কথাই ব্যক্ত করেছেন। আবার কৌমুদীর পিতার আজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি রাজ্যে প্রচলিত রয়েছে। তাই ‘সময়বিরুদ্ধাচরণ’ হল ‘নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ’। কাজেই কৌমুদী যেন রাজ্যের নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ না-করে—এটাই রাজা কৌমুদীকে বোঝাতে চেয়েছেন।




Q.10--“অতঃ জনকস্য তে আদেশঃ পালনীয়।”-–কে, কাকে বলেছেন? বক্তা কী কারণে এই কথা বলেছেন?


[] উদ্ধৃত কথাটি অবন্তীরাজ ইন্দ্রবর্মা কৌমুদীকে বলেছেন।

[] প্রসঙ্গ—অবন্তীরাজ ইন্দ্রবর্মার কাছে বিচার চেয়ে উপস্থিত হয়েছেন কৌমুদীর বৃদ্ধ বাবা ইন্দুশর্মা। দেশাচার না-মানার জন্য বাবা রাজার কাছে মেয়ের যথোচিত শাস্তি চেয়েছেন। রাজা কৌমুদীকে স্নেহভরে বোঝানোর জন্য নানা উপদেশ দিয়েছেন। কিন্তু মেয়ে কৌমুদী অবিচল। তখন রাজা এমন মন্তব্য করেছিলেন।

[] রাজার উক্তি--কৌমুদীকে রাজা ইন্দ্রবর্মা অনেক বোঝালেন—সে যেন দেশাচার অমান্য না করে। পিতার আদেশ মেনে তাঁর পছন্দের পাত্র মকরন্দকে বিবাহ করে। অন্যথায় তার আমৃত্যু কুমারীজীবন অথবা মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্য। সুশাসক ইন্দ্ৰবৰ্মা অল্পবয়সি সুন্দরী কৌমুদীকে বোঝান – বাবার অবাধ্য না-হয়ে সুন্দর যুবক মকরন্দকে বিয়ে করতে। যদি বাবার অবাধ্য হয় তবে দেশাচার অনুযায়ী কৌমুদীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। নিয়ম পালনের বিরুদ্ধে গিয়ে কৌমুদী কখনও সুখী হবে না। কৌমুদীর এই জেদ তার কল্যাণকর হবে না এবং সুখকরও হবে না। অতএব বাবার আদেশ পালন করা উচিত। প্রেমিক ও সমব্যথী রাজা কৌমুদীকে স্নেহভরে বুঝিয়েছেন আর সুশাসক হিসাবে দেশাচার রক্ষায় কঠোর দণ্ডের কথা বলেছেন।







Q.11--‘বাসস্তিকস্বপ্নম্' অবলম্বনে রাজা ইন্দ্রবর্মা ও কনকলেখার কথোপকথন সংক্ষেপে আলোচনা করো।



[] কৃষ্ণমাচার্য বিরচিত ‘বাসস্তিকস্বপ্নম্’-এর প্রথমাঙ্কে রাজা ইন্দ্রবর্মা ও তাঁর প্রণয়ী কনকলেখার কথোপকথন রয়েছে।

[] কথোপকথন—রাজা ইন্দ্রবর্মার সঙ্গে কনকলেখার আর চারদিন পরে বিবাহ সম্পন্ন হবে। তাঁরা দুজনে এ বিষয়ে কথাবার্তা বলছেন। রাজা ইন্দ্রবর্মার আর ধৈর্য ধরে না। বসন্তের কোকিলের ডাক শুনতে আর বেশি সময় নেই, চাঁদও রাজার মনে প্রভাব বিস্তার করছে নির্দয়ের মতো –“শশাঙ্কঃ তু অতিনিঘৃণঃ।” মাঝখানের এই চারদিন যেন কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয় হওয়া চাঁদের মতো অতি ধীরে বিদায় নিচ্ছে।

তাঁদের বিবাহকে উদ্দেশ্য করে সেও খুব উৎসুক। রাজা এই চারটি দিন কীভাবে কাটাবেন ভেবে পাচ্ছেন না। কারণ তাঁর কাছে একদণ্ড কাল যেন বহু যুগ বলে মনে হচ্ছে। তখন কনকলেখা রাজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন যে, চারটি দিন প্রায় চারটি রাত্রি হয়ে ক্ষণকালের মধ্যে দেখতে দেখতে শীঘ্রই কেটে যাবে। যে রাত্রিতে দুজনের পরিণয় মহোৎসব হবে, তা শীঘ্র এসে যাবে। অতএব তাঁর কষ্ট পাওয়ার প্রয়োজন নেই।

[] এইভাবে রাজা ইন্দ্রবর্মা ও কনকলেখার কথোপকথনের মাধ্যমে নাট্যকার উভয়ের প্রেম-মিলনের মধুর দিক তুলে ধরেছেন।



Q.12—“মহারাজ দীয়তাং দয়ার্দ্রং চিত্তম্‌।”—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য লেখ।


[] শ্রীকৃষ্ণমাচার্য প্রণীত পঞ্চমাঙ্কের ‘বাসন্তিকস্বপ্নম্’-এর প্রথম অঙ্কে কন্যার বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থী তার বাবা ইন্দুশর্মা রাজা ইন্দ্রবর্মার কাছে এই বিনম্র আবেদন করেছিল যে, রাজা যেন ইন্দুশর্মার প্রতি একটু মনোযোগ দেন এবং তাঁর প্রার্থনা পূরণ করেন।

[] প্রসঙ্গ--রাজা ইন্দ্রবর্মার সঙ্গে কনকলেখার শীঘ্রই বিবাহ সম্পন্ন হবে। কিন্তু রাজার আর ধৈর্য ধরে না। তাই কনকলেখা তাঁকে নানাভাবে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। এমন সময় বিচারপ্রার্থী হয়ে এক বৃদ্ধ ক্রুদ্ধ ও শোকাবিষ্ট হয়ে তাঁর মেয়ে কৌমুদীকে নিয়ে রাজার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। ফলে রাজা ও কনকলেখার বার্তালাপ বন্ধ হয়ে যায়।

[] তাৎপর্য--রাজা ইন্দ্রবর্মা কর্মব্যস্ত মানুষ। তাই তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। রাজা বিচারপ্রার্থী ইন্দুশর্মাকে দেখে বুঝতে পারেন তিনি কোনো কাজের জন্য রাজার কাছে এসেছেন। প্রথমে ইন্দুশর্মা হাত তুলে রাজার বিজয় কামনা করেন। রাজাও প্রতি-নমস্কার জানিয়ে বলেন, তাঁকে কিছু কার্যের প্রার্থী বলে রাজার মনে হয়েছে। তখন ইন্দুশর্মা মেয়ে কৌমুদীর পরিচয় দেন এবং বলেন যে, কৌমুদী তার আদেশ লঙ্ঘন করে খুব দুঃখ দিয়েছে। রাজা যেন একটু সময় বের করে ইন্দুশর্মার কথা শোনেন এবং অবাধ্য মেয়ের দেশাচার লঙ্ঘনের জন্য রাজদণ্ড দেন।





----------------------------------------------

দ্বাদশ শ্রেণির সংস্কৃতের অন্যান্য লেখা


👉 আর্যাবর্তবর্ননম্‌

👉 বনগতা গুহা

👉 শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্‌

👉 শ্রীমদ্ভাগবতগীতা (কর্মযোগ)

👉 বাসন্তিকস্বপ্নম্‌

👉 ভাবসম্প্রসারণ

👉 সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস

👉 ভাষাতত্ত্ব

👉 সংস্কৃত ব্যাকরণ

👉 অনুচ্ছেদ রচনা



---------------------------------------------------

দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা

---------------------------------------------------

দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস

---------------------------------------------------




আমাদের টেলিগ্রাম ও ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন

👇👇👇👇


Join Telegram (demo)

Join Facebook (open)




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.