Ebook + PDF Easy GK বাংলা রচনা
সাহিত্যের ইতিহাস BA MA বাংলা Question-Paper
WBCS স্কুল নোটস Join Telegram

Ads Area

তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের রচনাধর্মী বড়ো প্রশ্ন উত্তর ২০২৩ | প্রেমেন্দ্র মিত্র | Telenapota Abiskar Descriptive Question Answer | Class XI 2023


তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের  রচনাধর্মী বড়ো প্রশ্ন উত্তর ২০২৩ | প্রেমেন্দ্র মিত্র | Telenapota Abiskar Descriptive Question Answer | Class XI 2023




একাদশ শ্রেণির তিনটি সংকলিত গল্পের মধ্যে 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পটি উল্লেখযোগ্য একটি গল্প। প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত আলোচ্য গল্পের উল্লেখযোগ্য পরীক্ষায় আসতে পারে এমন সম্ভাব্য কয়েকটি প্রশ্নের নুমনা উত্তর দেওয়া হলো:


যে প্রশ্নগুলি আছে(toc)




  

প্রশ্ন: গোরুর গাড়িতে করে যাওয়ার অভিনব অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও।


রচনা পরিচয়: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কথাকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে কাল্পনিক গ্রাম তেলেনাপোতায় যাবার প্রসঙ্গ রয়েছে। সেখানে যাবার প্রসঙ্গে এসেছে গোরুর গাড়ির কথা।

অভিনব অভিজ্ঞতা: যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে গোরুর গাড়ির ব্যবহার গ্রাম-বাংলার প্রান্তবর্তী অঞ্চলে প্রায়শ দেখা যায়। আলোচ্য গল্পে নগর জীবনে অভ্যস্ত গল্পকথক ও তার দুই বন্ধু একটি বাসস্টপে নেমে পড়েন। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা আবছা অন্ধকারে একটি ক্ষীণ আলো দেখতে পান। এবং সেখান থেকে তারা একটি গোরুর গাড়ির আগমন হতে দেখে নিশ্চিন্ত হন।

জঙ্গলের ভিতর থেকে ‘ধীর মন্থর দোদুল্যমান গতিতে’ আসা গোরুর গাড়িটির বিবরণ দিয়ে গল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্র চলচ্চিত্রের মতো দৃশ্যমান জগতের ছবি অঙ্কন করেছেন। তিনি লিখেছেন—

‘যেমন গাড়িটি তেমনি গোরুগুলি। মনে হবে পাতালের কোনো বামনের দেশ থেকে গোরুর গাড়ির এই ক্ষুদ্র সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি বেরিয়ে এসেছে।‘


বৃথা বাক্য-ব্যয় না করে গল্পকথক ও তার বন্ধুরা গাড়িতে চেপে বসেছিলেন। গাড়িটি তাদের নির্দেশিত তেলেনাপোতা অভিমুখে যাত্রা করে। জায়গার নিতান্তই অভাবের কারণে তারা অত্যন্ত কষ্টে বসেছিলেন।

ঘন অন্ধকার অরণ্যের বুক চিরে গাড়িটি যখন চলতে থাকে তখন প্রতি মুহূর্তে মনে হয় ‘কালো অন্ধকারের দেয়াল বুঝি অভেদ্য'। গল্পকথকের মনে হতে থাকে, তারা যেন পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন এক অন্ধকার দ্বীপে অবস্থান করছে। গল্পকার লিখেছেন—

‘অনুভূতিহীন কুয়াশাময় এক জগৎ শুধু আপনার চারিধারে।‘


গল্পকথকদের পথ চলার সময় আকাশে কৃষ্ণপক্ষের স্নান আলোর চাঁদ দেখা যাচ্ছিল। সেই অনুজ্জ্বল আলোয় দেখা যাচ্ছিল—

ক) প্রাচীন মন্দির।

খ) প্রাচীন অট্টালিকার ধ্বংসাবশেষ।

গ) শিহরণ জাগানো নানা দৃশ্য।

একাধিকবার বাঁক ঘুরে অবশেষে গাড়িটি একটি জীর্ণ, ভগ্ন, প্রাচীন অট্টালিকার সামনে কথকদের নামিয়ে দিয়েছিল।



প্রশ্ন: যে ঘরে চরিত্রেরা রাতের জন্য আশ্রয় নিয়েছিল, সেই ঘরটির বর্ণনা দাও।


সূচনা: সুখ্যাত লেখক প্রেমেন্দ্র মিত্র ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে নগরজীবন থেকে অখ্যাত, অজ্ঞাত গ্রামে আসা এক যুবকের উপলব্ধির কথা শুনিয়েছেন। আশ্রয় নিয়েছেন গ্রামেরই একটি ভগ্ন অট্টালিকায়।

ঘরের বর্ণনা: ব্যস্ত শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের ফাঁকে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কথক এসেছেন তেলেনাপোতায়। যে ঘরে তারা রাত কাটানোর ছাড়পত্র পেয়েছিলেন সেই ঘর বসবাসের পক্ষে অনুপযুক্ত৷ কেননা, গল্পকথক দেখেছেন এমন কয়েকটি দৃশ্য যা মোটেই সুখপ্রদ নয়। যেমন—

ক) ঘরের ঝুল, জঞ্জাল, ধুলো পরিষ্কারের ব্যর্থ চেষ্টা হয়েছে।

খ) অস্পষ্ট ভ্যাপসা গন্ধ ঘরটিকে আমোদিত করেছে।

গ) ঘরটির ছাদ ও দেয়াল থেকে জীর্ণ পলস্তারা খসে পড়েছে।

ঘ) দু-তিনটি চামচিকা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অতি সচেতন হয়ে রীতিমতো বিবাদ শুরু করেছে।

রাতের অন্ধকার যখন গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছিল ঠিক সেই সময় মশা নবাগতদের অভিনন্দন জানাচ্ছিল। এই মশারা ছিল 'ম্যালেরিয়া দেবীর অদ্বিতীয় বাহন অ্যানোফিলিস।' গল্পকথক নিদ্রাবিলাসী নন। তাই যখন ছাদে ওঠেন তখন তার চোখে ধরা পড়ে ভাঙনের নানা চকিত দৃশ্যাবলি,

অধিকাংশ জায়গাতে আলিসা ভেঙে ধুলিসাৎ হয়েছে, ফাটলে ফাটলে অরণ্যের পঞ্চম বাহিনী ষড়যন্ত্রের শিকড় চালিয়ে ভিতর থেকে এ অট্টালিকার ধ্বংসের কাজ অনেকখানি এগিয়ে রেখেছে।

কৃষ্ণপক্ষের মৃতপ্রায় জ্যোৎস্নায় ম্লান আলোকে চারিদিক মোহময় হয়ে উঠেছিল।



প্রশ্ন: 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পটির নামকরণের সার্থকতা লেখ।


ভূমিকা: ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পের নামকরণ অভিনব। এ গল্প প্রচলিত সমস্ত ফর্ম বা টেকনিককে ভেঙে দিয়েছে। মধ্যমপুরুষের বয়ানে রচিত গল্পটি বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য গল্প।

এর বিষয়বস্তু অসাধারণ। এ গল্পের বিন্যাস কৌশল চমৎকার। আধা-বাস্তব ও স্বপ্নের সম্মিলনে ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার'-এর নামকরণ অসীম ব্যঞ্জনা প্রদান করে।

সার্থকতা বিচার

‘আবিষ্কার’ শব্দটি ক্রমান্বয়ে বহুবার ব্যবহার করেছেন লেখক। এমন এক রোমাঞ্চকর পরিবেশ, বহু প্রাচীন এমন ভাঙা বাড়ি, আর রহস্যময় সে বাড়িতে পৌঁছানোর এমন এক কুয়াশা ঘেরা অন্তরীপের মতো পথ বলে দেয়—সত্যি সেখানে মিশে আছে আবিষ্কারের অন্য আর এক অনুভূতি, যা আমাদের কাছে একেবারে নতুন। যা আমরা অন্বেষণ করেছি এবং অবশেষে খুঁজে পেয়েছি—তাই হলো আবিষ্কার। ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘Discovery’ । আবার এর পাশে আরেকটি শব্দও আসে, তা হল ‘Invention'.

‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে এমন একটি গ্রামের আবিষ্কার করেছেন এ গল্পের কথক, যা তার কাছে তৃতীয় ভুবনের মতো। তাই এই গ্রামে যাওয়াটা রোমাঞ্চকর। লেখক বারবার ধ্রুবপদের মতো বলে গিয়েছেন ‘আবিষ্কার’-এর কথা। যেমন—

ক) তেলেনাপোতা আপনারাও একদিন আবিষ্কার করতে পারেন।

খ) হঠাৎ একদিন তেলেনাপোতা আপনিও আবিষ্কার করতে পারেন।

গ) তেলেনাপোতা আবিষ্কার করতে হলে একদিন বিকেল বেলার পড়ন্ত রোদে জিনিসে মানুষে ঠাসাঠাসি একটা বাসে গিয়ে আপনাকে উঠতে হবে।

ঘ) তেলেনাপোতা আবিষ্কারের জন্যে আরো দু-জন বন্ধু ও সঙ্গী আপনার সঙ্গে থাকা উচিত।

এভাবে ক্রমান্বয়ে ‘আবিষ্কার' শব্দটি ব্যবহার করে প্রেমেন্দ্র মিত্র এ গল্পের নামকরণকে করেছেন ব্যঞ্জনাধর্মী।

গল্পের শেষে লক্ষ করি কথকের আবিষ্কারের গ্রাম তেলেনাপোতা তাঁর স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। আবিষ্কৃত স্থান পুনরায় হারিয়ে গেছে। ব্যস্ত শহুরে জীবনে একটুখানি নিরিবিলি শান্তির জায়গা এভাবেই একঝলক সামনে এসেই অদৃশ্য হয়। এ গল্পের নামকরণে প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রতীকের আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এজন্যে আলোচ্য গল্পের নামকরণ হয়েছে সংগতিপূর্ণ।



প্রশ্ন: ‘মনে হবে তেলেনাপোতা বলে কোথাও কিছু নেই’ – একথা কার, কেন মনে হবে? এই মনে হওয়ার কারণ কী? [২০১৪] [২০১৮] [২০২২]


রচনা ও রচনাকার: উদ্ধৃতিটি কবি-কথাসাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্রের অন্যতম একটি ছোটোগল্প ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

কার মনে হবে: আলোচ্য গল্পে গল্পকথকের একথা মনে হয়েছিল। যেকোনো পাঠকেরই এমন অনুভূতি হবে বলে মনে হয়।

কেন মনে হবে: তেলেনাপোতা থেকে ফিরে আসার পর ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নাগরিক যুবক যামিনীর মাকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। তাই এমনও মনে হবে যে, তেলেনাপোতা বলে সত্যই কিছু নেই।

মনে হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ: গল্পের তেলেনাপোতা এমন এক গ্রাম যেখানে মাছ শিকারের জন্য অনেকেই আসে। তারা অনেক স্বপ্ন দেখে কিংবা দেখায়। কিন্তু মহানগরীতে ফিরে গেলেই সেইসব স্বপ্ন বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়।

বাস্তবে তেলেনাপোতা নামে কোনো গ্রাম নেই। আসলে এ গ্রাম-বাংলার প্রতীক। তেলেনাপোতার ধ্বংসাবশেষ, রোগ-ব্যাধি, দারিদ্র, অসহায়তা, বিপন্নতা বাংলার যেকোনো গ্রামেরই প্রতিচ্ছবি। শহুরে মানুষ যারা গ্রামের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত নয়—এই ভাবুক নাগরিক যুবকেরা যামিনী বা যামিনীর মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মনে রাখতে পারে না। কারণ—
‘তেলেনাপোতার স্মৃতি আপনার কাছে ঝাপসা একটা স্বপ্ন মনে হবে’।


এবং সেই অপেক্ষারত যামিনীকে মনে হয় “অবাস্তব কুয়াশার কল্পনা”।



প্রশ্ন: ‘আমি তোমায় কথা দিচ্ছি মাসিমা। আমার কথার নড়চড় হবে না’ – কে, কাকে একথা বলেছে? সত্যই কি তাঁর কথার নড়চড় হবে না?


গল্প ও গল্পকার: আলোচ্য অংশটির উৎস ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্প। লেখক প্রেমেন্দ্র মিত্র।

বক্তা ও শ্রোতা: আলোচ্য উক্তিটির বক্তা গল্পকথক। কথাটি যামিনীর মা-কে উদ্দেশ্য করা বলা হয়েছে।

প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতা: মধ্যবিত্ত নাগরিক মন কথা দেয়, কিন্তু কথা রাখতে পারে না। তাদের স্বপ্ন আছে, সামর্থ্য নেই। মনে হবে তারা যেন শুধু স্বপ্ন দেখতেই ভালোবাসে কিন্তু দায়িত্ব নিতে ভয় পায়। গল্পের নায়ক যামিনীর সম্পর্কে অনেক কথাই বন্ধু মণির কাছ থেকে শুনে নেয়। তখনই তিনি নিরঞ্জনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

গল্প-শেষে দেখা যায়, নায়ক তার প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। যামিনীকে গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়। নগর কলকাতার এই নায়কের কাছে একসময় তেলেনাপোতার স্মৃতি ঝাপসা হয়ে যায়। কারণ ম্যালেরিয়া তার স্মৃতিকে ঝাপসা করে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নিরঞ্জনেরা কখনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনা। একারণে কথকের কথার নড়চড় হয়ই।



প্রশ্ন: ‘একদিন তেলেনাপোতা আপনিও আবিষ্কার করতে পারেন’ – বক্তা কে? আপনি বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? কিভাবে তেলেনাপোতা আবিষ্কার সম্ভব বলে লেখক মনে করেন?


সূচনা: আলোচ্য অংশটির উৎস প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্প।

বক্তা: বক্তা হলে গল্পকথক, এখানে লেখক প্রেমেন্দ্র মিত্র।

তেলেনাপোতা কিভাবে আবিষ্কৃত হবে: গল্পটি বাংলা সাহিত্যে আঙ্গিকগত দিক দিয়ে অভিনব। গল্পে অদ্ভুত এক স্বপ্নময় জগতের সন্ধান দিয়েছেন লেখক।

কর্মক্লান্ত তিন মধ্যবিত্ত যুবককে বেরিয়ে পড়তে হয় শনি বা মঙ্গলবারে। যেতে হয় সমস্তরকম সুবিধা বঞ্চিত অজ পাড়াগাঁয়ে। এখানে কয়েকটি প্রতিকূলতা সামনে আসতে পারে। যেমন,

[ক] গ্রামের আলোহীন পথঘাট

[খ] প্রবল মশার উৎপাত

[গ] পানাপুকুরের পচা দুর্গন্ধ

এসবকে উপেক্ষা করেই গল্পকথক দুই বন্ধুকে নিয়ে পৌঁছে যান রূপকথার তেলেনাপোতা গ্রামে।

গল্পে দেখা যায় প্রতীক্ষারতা দুই রমনীকে। একজন যামিনী অন্যজন যামিনীর অন্ধ বৃদ্ধা মা। মৃত্যু পথযাত্রী এই বৃদ্ধার সঙ্গে প্রতারণা করেছে নিরঞ্জন; তাই গল্পের নায়ক নিজেই নিরঞ্জন হয়ে যামিনীর মায়ের কাছে প্রতিশ্রুতি দেয়।

যামিনীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ম্যালেরিয়া কথককে নগর কলকাতায় আটকে দেয়। কথক তেলেনাপোতায় আর ফেরেননি। এইভাবে তেলেনাপোতার স্মৃতি কথকের মন থেকে ঝাপসা হয়ে যায়। এইভাবে গল্পকার পাঠকদের উদ্দেশ্য করে জানিয়েছেন—
‘হঠাৎ একদিন আপনিও তেলেনাপোতা আবিষ্কার করতে পারেন’।
পাঠকও হয়তো এই ধরণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবেন। আর আবিষ্কৃত হবে পাঠকের মনে আর এক তেলেনাপোতা।



প্রশ্ন: মাছ ধরার সময় পুকুরঘাটের দৃশ্যের বর্ণনা দাও।


ভূমিকা: ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পটি সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্রের রচিত। গল্পটি যেন রূপকথার স্বপ্নপুরীর মতো। গল্পে বাস্তব ও রোমান্সের অদ্ভুত মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়।

পুকুরঘাটের বর্ণনা: গল্পকথক সুদূর নগর কলকাতা থেকে এসেছিলেন মাছ শিকার করতে। মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে কথক যে ঘাটে এসে বসেন সেই ঘাট শ্যাওলায় আবৃত ছিল। পুকুরের জল ছিল সবুজ রঙের।

গল্পকথক টোপ সমেত বড়শি জলে নামিয়ে বসেছিলেন। সেইসময় তারই মতো শিকারি কয়েকটি প্রাণী সেখানে উপস্থিত ছিল। যেমন,

ক] একটি মাছরাঙা পাখি শিকার কাকে বলে তা গল্পকথককে শিখিয়ে দিয়েছিল।

খ] একটি সাপ ঘাটের ফাটল থেকে বেরিয়ে পুকুর সাঁতরে ওপারে উঠেছিল।

গ] দুটি ফড়িং পাল্লা দিয়ে ফাতনাটার উপর বসবার চেষ্টা করছিল।

ঘ] ঘুঘুপাখির ডাকে মাছধরার মনোযোগ নষ্ট হচ্ছিল।

এইরকম ঘটনার মাঝেই হঠাৎ জলের শব্দে গল্পকথক চমকে ওঠেন। যামিনী গল্পকথকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল—“বসে আছেন কেন? টান দিন”। এরপর যামিনী চলে গেলে গল্প কথক খেয়াল করেন বড়শিতে টোপ আর নেই।

ঘটনার এই শেষাংশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই অংশ প্রমাণ করে, গল্প কথকের মাছ শিকার শুধু ব্যর্থ নয়; যামিনীর সঙ্গে তার সম্পর্কের সূত্রটিও ছিন্ন হতে চলেছে। এককথায় গল্পের এই অংশটুকু বেশ গুরুত্বপূর্ণ।



প্রশ্ন: যামিনী চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি বিশ্লেষণ কর।


ভূমিকা: ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পের মূল নারী চরিত্র হলো যামিনী। সে শান্ত, ধীর, স্থির। তার মুখে দেখা যায় বেদনার প্রতিচ্ছবি। যামিনীর চরিত্র আলোচনায় যে বিশেষ দিকগুলি সবিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে তা আলোচিত হলো।

চরিত্র বৈশিষ্ট্য

১] সংকোচহীন ব্যবহার: যামিনীর ব্যবহারে আড়ষ্টতা ছিল না। তার মধ্যে সংকোচবোধ দেখা যায়নি। সে সহজ-সরল আন্তরিক। মণির কাছে মায়ের কথা আন্তরিকভাবে জানিয়েছিল।

২] শান্ত-করুণ প্রতিচ্ছবি: গল্পের প্রথমেই লেখক বলে নিয়েছেন যামিনীর মধ্যে অদ্ভুত এক শান্ত করুণ প্রতিছবি রয়েছে। তার অপুষ্ট শরীর চিন্তায় যেন থমকে গিয়েছে। লেখকের বর্ণনা—

“দীর্ঘ, অপুষ্ট শরীর দেখলে মনে হবে কৈশোর অতিক্রম করে যৌবনে উত্তীর্ণ হওয়া তার যেন স্থগিত হয়ে আছে”।
৩] নিঃসঙ্গ যামিনী: যামিনী নিতান্তই নিঃসঙ্গ। যামিণী জানতো, শহুরে নিরঞ্জন ফিরে আসে না গ্রামবাংলার যামিনীর কাছে। গল্পের শেষেও নিঃসঙ্গ একাকী যামিনীর কথা পাঠকের মনে পড়বে।

৪] সেবাপরায়নতা: অসুস্থ মাকে সেবা যত্নে ভরিয়ে রেখেছে যামিনী। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব তার উপর। যামিনীর মায়ের মুখেই মেয়ের এই গুণের কথা পাঠক জানতে পারে।

৫] বুদ্ধিমত্তা ও বিচারক্ষমতা: যামিনী গ্রামের মেয়ে হলেও বুদ্ধিমতী। নিরঞ্জনের কথায় যামিনী উচ্ছ্বসিত ছিল না। তাই যখন গল্প কথক যামিনীর মাকে প্রতিশ্রুতি দেয় তখনও যামিনী জানতো গল্প কথক ফিরে আসবে না।

৬] বিষাদ করুণ এক ছায়ামূর্তি: তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে যামিনী চরিত্রটি যেন নম্র, বিষাদ এক ছায়ামূর্তি। এককথায় যামিনী চরিত্র উল্লেখযোগ্য ও ব্যতিক্রম।




প্রশ্ন: 'আপনার আসল উদ্দেশ্য আপনি নিশ্চয় বিস্মৃত হবেন না’। - আসল উদ্দেশ্য কোনটি? সেই উদ্দেশ্য সাধনে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী করলেন?


১) আসল উদ্দেশ্য : ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে আসল উদ্দেশ্য বলতে মৎস্য শিকারের কথা বলা হয়েছে।

২) উদ্দিষ্ট ব্যক্তির মৎস্য শিকার বৃত্তান্ত : তেলেনাপোতা গ্রামের নির্জন পুকুরে মাছ শিকারের অসাধারণ একটি বর্ণনা আছে। পানাপুকুরে বঁড়শি ফেলে একাকী বসেছিলেন গল্পকথক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দেখলেন, 'একটা মাছরাঙা পাখি ক্ষণে ক্ষণে’ উপহাস করবার জন্যে পুকুরের জলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ঠোঁটে মাছ নিয়ে সে প্রমাণ করছে কীভাবে শিকার করতে হয়। একটি সাপ ভাঙা ঘাটের কোনো এক ফাটল থেকে বেরিয়ে ধীর গতিতে পুকুরের এধার থেকে ওধারে ওঠে। দুটি ফড়িং পাল্লা দিয়ে পাতলা কাচের মতো পাখা নেড়ে ফাতনার উপর বসে। ঘুঘু পাখি উদাস করা সুরে ডাকতে থাকে।

গল্পকথক জলের শব্দে চমকে ওঠেন। দেখেন ফাতনা দুলছে। পুকুরের পানা সরিয়ে একটি মেয়ে জল ভরছে। মেয়েটি কথকের দিকে তাকায়। তারপর ফাতনা লক্ষ করে। মুখ ফিরিয়ে কলসিটা কোমরে তুলে নেয়।

ডুবে যাওয়া ফাতনা জলের উপরে ভেসে ওঠে। দেখা যায় ‘বঁড়শিতে টোপ আর নেই।' পুকুরের ঘাটের নির্জনতা আর ভঙ্গ হয় না। মাছেরা শিকারিকে উপেক্ষা করে জলের তলায় খেলতে থাকে। গল্পকথকের পক্ষে মৎস্য শিকার করা সম্ভব হয় না। প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখেছেন, 'এক সময় হতাশ হয়ে আপনাকে সাজসরঞ্জাম নিয়ে উঠে পড়তে হবে।' তার বন্ধুরা মৎস্য শিকারের ব্যর্থতা নিয়ে রীতিমতো কৌতুক করতে থাকে।



প্রশ্ন: ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পের নায়ক চরিত্রটির বৈশিষ্ট্যগুলি নির্দেশ করো।

[অথবা]

'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পে নিরঞ্জনের ভূমিকায় আসা শহুরে মধ্যবিত্ত নায়ক চরিত্রটির সংবেদনশীলতার পরিচয় দাও।


‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পটি বাংলা সাহিত্যে অভিনব। এ গল্পে মধ্যবিত্ত মন-মানসিকতাকে লেখক তীব্রভাবে আঘাত করেছেন। গল্পের কথক হলেন গল্পের নায়ক। তাঁর চরিত্রের আলোচনায় কতকগুলি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে। যেমন--

এক॥ শহুরে মানুষের প্রতিনিধি: এ গল্প স্বপ্ন দেখার গল্প, স্বপ্ন পূরণের গল্প নয়। আর যাকে অবলম্বন করে এ গল্প কেন্দ্রস্থ হয়েছে সেই নায়ক হয়ে ওঠেন শহুরে মানুষের একমাত্র প্রতিনিধি।

দুই ।। সংবেদনশীল মন: তিন বন্ধুর মধ্যে গল্পকথক অপেক্ষাকৃত সংবেদনশীল। দুই বন্ধু নিজেদের মতো পানাসক্ত ও নিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেও তার চোখে ঘুম আসে না। অবশেষে কোনোরকমে রাত কাটিয়ে যখন সকাল হয় তখন তিনি যান নির্জন স্থানে পুকুরটিতে মাছ ধরতে। চারিদিকে নিস্তব্ধতা। জল ভরতে আসে যামিনী। তার চোখে কৌতূহল।

তিন॥ নায়কের প্রতিশ্রুতি: যামিনী বলেছিল তার মা বারবার তার কাছে জানতে চেয়েছে, নিরঞ্জন এসেছে কিনা। তখন গল্পের কথক জানতে পারে নিরঞ্জন নামের এক যুবক কথা দিয়েও কথা রাখেনি। কথকের মনে হয় যামিনীকে ঠকিয়েছে নিরঞ্জন। ফলে গল্পের কথকের মনে হয় তিনি যামিনীকে ঠকাবেন না।

চার ।। উদার মানসিকতা: কিন্তু তার এই কথা বাস্তবায়িত হয় না। যদিও আমরা প্রত্যক্ষ করি নায়কের মন উদার। তার দৃষ্টিভঙ্গি নিঃসন্দেহে অনেকখানি প্রসারিত। তাই বৃদ্ধা যখন যামিনীর কথা শোনান এবং বলেন এই মেয়েটির জন্যেই তিনি মরতে পারছেন না, তখন নায়কের মনের অবস্থা নির্দেশে প্রেমেন্দ্র মিত্র লেখেন—
“একাস্ত ইচ্ছে সত্ত্বেও চোখ তুলে একটিবার তাকাতে আপনার সাহস হবে না। আপনার নিজের চোখের জল বুঝি আর গোপন রাখা যাবে না”।
পাঁচ।। পলায়নবাদী মানসিকতা: গ্রাম থেকে কথক চলে আসেন শহরে। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিশ্রুতিদাতা কথক শেষপর্যস্ত কোনোভাবে ফিরতে পারেন না তেলেনাপোতা গ্রামে। ফলে গল্পের কথক হয়ে ওঠেন পলায়নপর মধ্যবিত্তের অন্য আর এক রূপ।



প্রশ্ন: 'একবার ক্ষণিকের জন্যে আবিষ্কৃত হয়ে তেলেনাপোতা আবার চিরন্তন রাত্রির অতলতায় নিমগ্ন হয়ে যাবে।'—কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য? তেলেনাপোতা কীভাবে 'চিরন্তন রাত্রির অতলতায় নিমগ্ন হয়ে যাবে বলে লেখক মনে করেন?


১) প্রসঙ্গ : ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পে নগর কলকাতা থেকে ব্যস্ত নায়ক মাছ ধরার নেশায় তেলেনাপোতা গ্রামে উপস্থিত হন। যামিনীর বৃদ্ধা মাকে কথা দেন তিনি যামিনীকে বিবাহ করবেন। গল্প-কথক কথা দিয়েও আর ফিরে আসতে পারেননি তেলেনাপোতা গ্রামে। সেই প্রসঙ্গে এই উক্তি।

২) রাত্রির অতলতায় নিমগ্ন হওয়ার কাহিনি : ব্যস্ত জীবন থেকে তিন বন্ধু নিজেদের ইচ্ছাসুখে একদিন ‘শনি ও মঙ্গলের, মঙ্গলই হবে বোধহয়' উপস্থিত হন তেলেনাপোতা গ্রামে। প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখেছেন—

“কাজে কর্মে মানুষের ভিড়ে হাঁফিয়ে ওঠার পর যদি হঠাৎ দু-দিনের জন্যে ছুটি পাওয়া যায়—আর যদি কেউ এসে ফুসলানি দেয় যে কোনো এক আশ্চর্য সরোবরে”।
মানচিত্রহীন অজ্ঞাত গ্রামে তিনবন্ধু এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রেমেন্দ্র মিত্র দেখান

ক) অদ্ভুত সেই ভগ্ন গৃহ।

খ) চারিদিকে রোমাঞ্চকর পরিবেশ।

কথক মাছ ধরার নেশায় পুকুরে ছিপ ফেলেছিলেন। তারপর একসময় তার চোখে পড়েছিল এ গল্পের নায়িকা যামিনীকে। ‘যামিনী’ নামের মধ্যে রয়েছে রাত্রির মায়া, না পাওয়ার শূন্যতা।

গল্পের নায়ক নাগরিক মানুষ হলেও তার মধ্যে স্বপ্ন রয়েছে। তার মনে হয়েছে, নিরঞ্জনের মতো তিনি আর এমন মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধাকে কষ্ট দেবেন না। তাই কঙ্কালসার বৃদ্ধার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি কথা দিয়েছিলেন, যামিনীকে বিয়ে করবেন।

যদিও এই নায়ক শেষপর্যন্ত যামিনীর কাছে ফিরে আসেননি। ফলে তিনিও অন্য আরেক অর্থে নিরঞ্জনসত্তায় পরিণত হন। মধ্যবিত্ত পলায়নী মনকে প্রেমেন্দ্র মিত্র চিনতেন।

ফলে গল্পের পরিসমাপ্তিতে এসে প্রেমেন্দ্র মিত্র জানান, কলকাতায় ফিরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত নায়ক আর কখনোই তেলেনাপোতা গ্রামে ফিরে যাবে না। কেননা, ততদিনে নায়কের মনেরও পরিবর্তন ঘটেছে—
“অস্ত যাওয়া তারার মতো তেলেনাপোতার স্মৃতি আপনার কাছে ঝাপসা একটা স্বপ্ন ব’লে মনে হবে। মনে হবে তেলেনাপোতা ব'লে কোথাও কিছু সত্যি নেই”।
গল্পের শেষে তেলেনাপোতা কীভাবে চিরন্তন রাত্রির অতলতায় হারিয়ে যায় সেদিকে দৃষ্টি দিয়েছেন লেখক। এই উক্তির মধ্যে নাগরিক মধ্যবিত্ত নায়কের প্রতি তির্যক ব্যঙ্গ উচ্চারিত হয়েছে।


প্রশ্ন: তেলেনাপোতা যাওয়ার কারণ কী? একে লেখক আবিষ্কার' বলছেন কেন? [২০১৯]

(১) তেলেনাপোতা যাওয়ার কারণ : নাগরিক জীবনে অভ্যস্ত একঘেয়ে মন কিছু সময়ের জন্যে অবকাশ খুঁজে নিতে চায়। আর তখন মন উধাও হয় ‘সবচেয়ে সরলতম' মাছের সন্ধানে। অচেনা, অজানা যেকোনো গ্রামই তখন ‘তেলেনাপোতা’ হয়ে উঠতে পারে। গল্পকথক মাছ শিকারের উদ্দেশ্যেই বেরিয়ে পড়েছিলেন তেলেনাপোতা অভিযানে। অন্যতম গল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ (উৎস—‘প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প’ ) গল্পে এক অভিনব শৈলীতে এই আবিষ্কারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।


(২) 'আবিষ্কার' বলার কারণ : ‘আবিষ্কার’ বলতে আমরা বুঝি—যার সম্বন্ধে পূর্বে সকলে অজ্ঞাত, তাকে জানার নাম হলো 'আবিষ্কার'। 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পের ক্ষেত্রে তেলেনাপোতা এমন এক গ্রাম, যা কথকের নিজের আবিষ্কার। প্রকৃতপক্ষে ‘তেলেনাপোতা’ নামে কোনো গ্রাম নেই। কিন্তু বাংলার সমস্ত গ্রামই তেলেনাপোতা রূপে ব্যঞ্জিত হয়েছে।

মধ্যবিত্ত মানুষের কল্পনাচারী হওয়ার অন্তসার শূন্যতা-কে এই গল্পে তুলে ধরেছেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। শুধু 'আবিষ্কার' নয়, লেখক যেন আরও এক গভীর আত্ম-আবিষ্কারের দিকে আমাদের নিয়ে গিয়েছেন।

তেলেনাপোতা আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে দরিদ্রতম এক গ্রামের রূঢ় বাস্তব জীবনের কথা। মধ্যবিত্ত সমাজ অনেক স্বপ্ন নিয়ে তেলেনাপোতার মতো গ্রাম আবিষ্কারের অগ্রণী হয়। কিন্তু অচিরেই সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। যামিনীর মতো সহায়-সম্বলহীন কোনও নারীর দুঃখ মোচনে নায়ক ব্যর্থ হয়। তেলেনাপোতা আবিষ্কার যেন মানব মনের অতলতায় লুকিয়ে থাকা স্বপ্নের আবিষ্কার। যামিনীর বৃদ্ধা মা ও যামিনীকে গল্প কথক সে আশ্বাস দিয়েছেন, তা শেষপর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ঠিক যেমন স্বপ্নের বাস্তবায়ন অনেকসময় হয়না।

গল্প লেখক তাই মানব মনের অতল গহ্বরে ছলনাময় রহস্যকেই 'আবিষ্কার' শব্দের মধ্যে দিয়ে ব্যক্ত করতে চেয়েছেন। বস্তুত, 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পের গ্রামটি হলো এক অনাবিস্তৃত ভূগোল।




-------------------------------------------
--------------------------------------------

  


একাদশ শ্রেণির অন্যান্য লেখা   

 

 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

4 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Area